এম,আমিরুল ইসলাম জীবন,স্টাফ রিপোর্টার ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:৪৭:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ
যশোরের ঝিকরগাছা বদরুদ্দিন মুসলিম (বিএম) হাই স্কুলের আলোচিত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সামাদের বিদায় সংবর্ধনা বন্ধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এম. আতিয়ার রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি এই আবেদন করেন।
আবেদনে এম. আতিয়ার রহমান উল্লেখ করেন, ঝিকরগাছা বিএম হাই স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সামাদ আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসরে যাচ্ছেন। তার বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও অতীতে অবসরপ্রাপ্ত বহু প্রবীণ শিক্ষককে সম্মানজনক বিদায় জানানো হয়নি। এতে শিক্ষক সমাজের মধ্যে বৈষম্য ও অমর্যাদার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, তিনি নিজেসহ প্রবীণ শিক্ষক মশিয়ার রহমান, অমূল্য রতন বিশ্বাস, ইসরাফিল হোসেন ও ফজলুর রহমান অবসরে গেলেও তাদের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়নি। অথচ প্রধান শিক্ষক নিজের জন্য রাজকীয় বিদায়ের আয়োজন করছেন, যা মানহানিকর ও বেদনাদায়ক। এ কারণে বৈষম্য দূর করতে এককভাবে প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান বন্ধ এবং সহকারী শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, স্কুলের জেনারেল ফান্ডে প্রায় ১৫ লাখ টাকা গচ্ছিত থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের ১৫ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। তিনি জানান, বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩০০ টাকা এবং নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৮ হাজার টাকা ও খণ্ডকালীন শিক্ষকদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ওই শিক্ষক আরও জানান, স্কুলের জেনারেল ফান্ড থেকে প্রধান শিক্ষককে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক ফোরামের একটি অংশ, তবে এ বিষয়ে নিরীহ শিক্ষক ও কর্মচারীরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে বিদায় অনুষ্ঠানের ব্যয় প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ধরা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থী ও প্রধান শিক্ষকের বিদায় উপলক্ষে কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছিল, তবে বিষয়টি জানতে পেরে তা বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “স্কুলের ছেলেপুলে তাদের মতো করে বিদায় দেবে, এখানে টাকা-পয়সার কোনো বিষয় নেই। শিক্ষকরা কী করবে, সেটা তাদের বিষয়। তারা যদি মনে করে কাউকে টাকা দেবে, সেটাও তাদের ব্যাপার। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।”
শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্কুলের কোনো কমিটি না থাকায় নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত অর্থ উত্তোলন সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণে বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। নতুন কমিটি গঠিত হলে সব ঠিক হয়ে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্কুলের সভাপতি মোছা. রনী খাতুন বলেন, বিদায় সংবর্ধনা বন্ধের দাবিতে আবেদন পেয়েছেন। তবে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুষ্ঠান বন্ধ করা হবে না। তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন পৌঁছেছে, কিন্তু এ বিষয়ে বন্ধের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।




















