প্রতিনিধি ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৯:৩৮:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের ৯ জুলাই আইনজীবী হিসেবে আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন। আজ বুধবার দীর্ঘ ৩০ বছর পর ফের আদালতে আইনজীবী হিসেবে এসআইআর নিয়ে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। তবে এবারও পরেছিলেন ৩০ বছর আগে পরা সেই একই গাউন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, নব্বইয়ের দশকে নামকরা যুবনেত্রী ছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে নিজের তৎকালীন দল সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াই করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই রাইটার্স বিল্ডিং অভিযান চালায় পুলিশ। তৎকালীন প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের নির্দেশে নির্বিচারে পুলিশ গুলি করে। এতে নিহত হন ১৩ জন। এই ঘটনায় ৪৭ জন কংগ্রেসকর্মীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা রুজু হয়। সেই মামলা দুটির আইনজীবী ছিলেন অলোককুমার দাস। বছরের পর বছর ধরে চলে মামলার শুনানি।
১৯৯৬ সালের ৯ জুলাই ব্যাঙ্কশাল কোর্টের ৬ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে শুনানি করার কথা ছিল আইনজীবী অলোককুমার দাসের। সেই মতো প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় আচমকাই হাজির হন মমতা। গায়ে ছিল আইনজীবী অলোককুমার দাসের গাউন।
সকলকে অবাক করে মমতা জানান, দলীয় কর্মীদের হয়ে আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি শুনানি করতে চান। কিন্তু কোর্টে সওয়ালের জন্য প্রয়োজন গাউন বা শামলা। শাড়ি পরিহিত লড়াকু কন্যার কাছে তা যে নেই। তবে কি শুধু এইটুকুর জন্য মামলা লড়া হবে না তার। মাত্র কয়েক মিনিটেই সমস্যার সমাধান হয়। আইনজীবী অলোকের গাউনটি চেয়ে নিলেন মমতা। হাতে পাওয়ামাত্রই গায়ে চড়িয়ে নিলেন। তার মাঝেই ক্রমাগত মামলা সংক্রান্ত নানা তথ্য আইনজীবীর থেকে শুনে চলেছেন। আর মাথায় আইনি মারপ্যাঁচের ব্লুপ্রিন্ট ছকে চলেছেন। আদালত কক্ষে ঢুকে মমতা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি দমে যাওয়ার পাত্রী নন। মমতার অকাট্য যুক্তি শুনে বোঝাই যায়নি প্রস্তুতি ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের। চাঁচাছোলা ভাষায় তার শুনানি শুনে দুঁদে আইনজীবীরাও তাজ্জব হয়ে যান।
এরপর রাজনৈতিক ব্যস্ততা বাড়তে থাকে মমতার। সর্বভারতীয় কংগ্রেস থেকে বের হয়ে গড়ে তোলেন তৃণমূল কংগ্রেস। এ দলের হয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হওয়ার পর বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ের মাঝে আর গাউন পরে আদালত কক্ষে আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যায়নি তাকে। ৩০ বছর পর রাজ্যের এসআইআর ‘ভুক্তভোগী’দের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি করলেন তিনি।
আজ ৫ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি থাকলেও বাংলার সাধারণ মানুষের হয়ে গোটা পরিস্থিতির বর্ণনা করতে গিয়ে আরেকটু বেশি বলেছেন মমতা। প্রধান বিচারপতিও তার বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন।
৩০ বছর পর সুপ্রিম কোর্টে মমতার সেই একই রূপ দেখে ১৯৯৬ সালের কথা বড্ড মনে পড়ছে আইনজীবী অলোকের। নিজের আলমারিতে গুছিয়ে রেখে দিয়েছেন মমতার ব্যবহৃত গাউনটি। প্রতি বছর একবার ড্রাইওয়াশ করে তুলে রাখেন। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, তার একটাই স্বপ্ন, গাউনটি মমতার হাতে তুলে দেওয়া। ভবিষ্যতে কোনো জাদুঘরে গাউনটি সংরক্ষণ করা হোক। একদিন না একদিন স্বপ্নপূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।





















