বিনোদন

জমকালো আয়োজন, কনকচাঁপা পেলেন আজীবন সম্মাননা

  প্রতিনিধি ৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৪৬:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

একমঞ্চে সমবেত হয়েছিলেন দেশের সংগীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্ররা। বগুড়ার নান্দনিক একটি পাঁচতারকা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট মমো ইনের খোলা মাঠে এ যেন ছিল তারাদের মিলনমেলা। উপলক্ষ্য ২০তম টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় জাকজমকপূর্ণ এ আয়োজন।

এতে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। মঞ্চে তার নাম ঘোষণা করেন অভিনেত্রী-নির্মাতা আফসানা মিমি। এ সময় তুমুল করতালি আর হর্ষধ্বনির মধ্যদিয়ে কনকচাঁপাকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা স্মারক ও চেক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। পাশেই উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, টিএমএসএস’র প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম, ইমপ্রেস চ্যানেল আইয়ের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মজুমদার, পরিচারক জহিরউদ্দীন মাহমুদ মামুন, পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবু।

বিশেষ সম্মাননা লাভ করেছেন শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া। তার নাম ঘোষণা করেন অভিনেতা-নির্মাতা আফজাল হোসেন। মঞ্চে উপস্থিত অতিথিগণ তাকে উত্তরীয় পরিয়ে, তার হাতেও সম্মাননা স্মারক ও চেক তুলে দেন।

প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, ফেরদৌস আরা, অণিমা রায়, চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ ও ক্ষুদে গানরাজদের সমবেত কণ্ঠে ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ ও ‘আমার চ্যানেল আই’ গানের মধ্যদিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান।

বিভিন্ন ক্যাটাগারিতে পুরস্কার প্রদানের পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন পারফরম্যান্সে অংশগ্রহণ করেন শিল্পী তানভীর আলম সজীব ও তার দল, মেহরীন, মাহতিম সাকিব, মো. খুরশীদ আলম, বাপ্পি, লিজা, সাব্বির, লুইপা, শওকত হায়াত খান, ইমরান, কোনাল, অনন্যা, বিউটি, সালমা, আতিয়া আনিসা, শফিক তুহিন, ঝিলিক, কিশোর এবং অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও অভিনেতা আদর আজাদ।

এ ছাড়াও সংগীতের দুই কিংবদন্তি রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমীন সংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন। ২০তম টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন রাজু আলীম। উপস্থাপনা করেছেন অপু মাহফুজ ও নীল হুরেজাহান।

মূল আসরে ১৮টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন-

শ্রেষ্ঠ শিল্পী (আধুনিক গান): লিজা (খুব প্রিয় আমার)

শ্রেষ্ঠ শিল্পী (ইউটিউবে কমপক্ষে ১ লাখ ভিউ ও ১৫০০ লাইকপ্রাপ্ত আধুনিক গান): এঞ্জেল নূর (যদি আবার)

শ্রেষ্ঠ সুরকার (আধুনিক গান): বাপ্পা মজুমদার (অবশেষে)

শ্রেষ্ঠ গীতিকার (আধুনিক গান): তারেক আনন্দ ও শাহনাজ কাজী (প্রেমবতী মা)

শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড: মেট্রিক্যাল (গণতন্ত্রের ঘুড়ি)

শ্রেষ্ঠ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার: সেতু চৌধুরী (গণতন্ত্রের ঘুড়ি)

শ্রেষ্ঠ দ্বৈত সংগীতশিল্পী: ইমরান ও সিঁথি সাহা (প্রেম বুঝি)

শ্রেষ্ঠ লোকসংগীত শিল্পী: বিউটি (চার চাঁদে দিচ্ছে ঝলক)

শ্রেষ্ঠ লোকসংগীত শিল্পী (ইউটিউবে ১ লাখ ভিউ ও ১৫০০ লাইকপ্রাপ্ত লোকসংগীত, লটারির মাধ্যমে): শরিফ উদ্দিন দেওয়ান সাগর (মা লো মা)

শ্রেষ্ঠ ছায়াছবির গান: আতিয়া আনিসা (ছোট্ট সোনা)

শ্রেষ্ঠ ছায়াছবির গান (ইউটিউবে কমপক্ষে ১ লাখ ভিউ ও ১৫০০ লাইকপ্রাপ্ত ছায়াছবির গান, লটারির মাধ্যমে): দিলশাদ নাহার কনা (দুষ্টু কোকিল)

শ্রেষ্ঠ সুরকার (ছায়াছবির গান): শওকত আলী ইমন (ছোট্ট সোনা)

শ্রেষ্ঠ গীতিকার (ছায়াছবির গান): রোহিত সাধুখাঁ (বেঁচে যাওয়া ভালোবাসা)

শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও নির্মাতা: তানভীর তারেক (পাখি আমার নীড়ের পাখি)

শ্রেষ্ঠ নজরুল সংগীতশিল্পী: শহিদ কবির পলাশ (সৃজন ছন্দে)

শ্রেষ্ঠ উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী: নাশিদ কামাল (সব সখিয়া চলো)

শ্রেষ্ঠ নবাগত শিল্পী: সভ্যতা (অধিকার)

শ্রেষ্ঠ অডিও কোম্পানি: বেঙ্গল মিউজিক

এই আয়োজনে পৃষ্ঠপোষক ছিল টিএমএসএস, মমো ইন পাঁচতারকা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, এসআর গ্রুপ, অ্যাডভান্সড ডেন্টাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল হাসপাতাল, পিউলি, ক্ল্যাসিক্যাল হোমটেক্স, ইমপোরিয়াম প্রোপার্টিজ ও ধ্রুব মিউজিক স্টেশন। ঢাকা থেকে আড়াইশ’ শিল্পী, কলাকুশলী ও বিশিষ্ঠজনরা এই আয়োজনে অংশ নেন।

আরও খবর

Sponsered content