প্রতিনিধি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৯:০০:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস চত্বরে বিয়ের দাবিতে ৩০ বছর বয়সী এক নারী অনশন করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনশন করেন তিনি।
ওই নারী দাবি করে বলেন, তারাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে কর্মরত ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিরোজ হোসেন (৩৭)বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিষ্ট্যান্ট (ভিএফএ) হিসাবে কর্মরত অভিযুক্ত ফিরোজ হোসেন ওই নারীর বাড়ির সামনে বেশ কয়েক বছর ধরে ভাড়া থাকতেন। ওই সময় ওই নারীর সঙ্গে ফিরোজ হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে ওই নারীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি।
সম্প্রতি ফিরোজ হোসেনের অন্যত্র বদলির খবর পেয়ে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে ফিরোজ হোসেন ওই নারীর কথায় কোনো সাড়া না দিলে গত ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ওই নারী বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের লোকজন টের পেয়ে তাকে স্থানীয় তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক আশস্কাজনক হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেন।
পরে ওই নারী বেশ কয়েকদিন রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে আসলে ফিরোজ তাকে বিয়ে করার জন্য পুনরায় প্রতিশ্রুতি দেন। তবে ওই নারী বিয়ে করার জন্য ফিরোজকে চাপ দিলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
আজ সকালের দিকে ফিরোজ প্রাণি সম্পদ অফিসে আসলে ওই নারী বিয়ের দাবিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেতরে গিয়ে ফিরোজকে বিয়ের করার দাবি জানিয়ে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা তারাগঞ্জ থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ এসে ওই নারীকে অফিসের বাইরে যেতে বলেন। পুলিশর কথামতো ওই নারী পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন। একপর্যায়ে তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনের সড়কের ওপর শুয়েও পড়েন।
অনশন করা নারী বলেন, ‘ফিরোজ আমার সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করে আমাকে বিয়ে করার কথা বলে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। আমার ইজ্জত শেষ করে দিয়েছে। আমাকে আজকে বিয়ে না করলে অফিসের সামনে আত্মহত্যা করবো। তা ছাড়া আমার কোন উপায় নেই।’
অভিযুক্ত ফিরোজ হোসেন দাবি করে বলেন, ‘ওই নারীর সাথে আমার ভালো সম্পর্ক ছিলো। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শুনেছি এই বিষয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। সে (ফিরোজ) যদি অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে আদালত তার শাস্তি দেবেন।’




















