সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা: ৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১:৩১:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ
সময়ের পালাবদলে বদলে যাচ্ছে গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য। একসময় নেত্রকোনা জেলার গ্রামগুলোতে বসন্তের শেষ আর গ্রীষ্মের শুরু মানেই ছিল ধান কাটার উৎসবমুখর সময়। সন্ধ্যার আলো নিভু–নিভু হলে উঠোনে শুরু হতো গরুর হালে ধান মাড়াই—গরুর খুরের ছন্দ, মানুষের ব্যস্ততা আর শিশুদের হাসিতে মুখর থাকত পুরো গ্রাম।
কিন্তু সেই দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। গরুর জায়গা নিয়েছে আধুনিক মাড়াইকল। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কাজ দ্রুত ও সহজ হলেও হারিয়ে গেছে একসময়কার সেই মিলনমেলা আর আনন্দঘন পরিবেশ।
মদন উপজেলার কদমশ্রী গ্রামের কৃষক বশির মিয়া বলেন, “একসময় রাতভর ধান মাড়াই চলত। গরুর পায়ের শব্দে পুরো গ্রাম জেগে উঠত। সবাই মিলে কাজ করতাম। এখন যন্ত্র আছে, কাজও হয়—কিন্তু সেই আনন্দটা আর নেই।”
মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, “যন্ত্র এখন প্রয়োজন। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধান মাড়াই—সবকিছুতেই গতি এসেছে। কিন্তু গরু দিয়ে ধান মাড়াই ছিল আমাদের জীবনের অংশ। মনে হয় একটা ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে।”
নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, “প্রযুক্তির উন্নয়ন কৃষিকে এগিয়ে নিয়েছে—এটা সময়ের দাবি। আগে যে কাজে অনেক সময়, শ্রম ও ঝুঁকি ছিল, এখন তা সহজ হয়েছে। তবে এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নথিভুক্ত করা জরুরি, কারণ এগুলো আমাদের শেকড়ের গল্প বহন করে।”
সময়ের সঙ্গে কৃষির কাঠামো বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে জীবনযাত্রাও। তবুও কিছু স্মৃতি থেকে যায় হৃদয়ে—গরুর হালে ধান মাড়াই তারই একটি। আধুনিকতার সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি, এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের জন্য এক ধরনের নীরব বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছেন নেত্রকোনার মানুষ। কারণ এটি শুধু একটি কাজের পদ্ধতি ছিল না—এ ছিল গ্রামবাংলার সম্পর্ক, আনন্দ আর একসাথে বেঁচে থাকার এক অনন্য গল্প।














