প্রতিনিধি ৪ মে ২০২৬ , ১১:২০:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ
অবশেষে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের বৈশখালি গ্রামের পশু চিকিৎসক অনিমেষ পরমান্যকে মুক্তি দিয়েছে অপহরণকারীরা। সোমবার সকাল ১০টার দিকে সুন্দরবনের ধোলাই খাল এলাকা থেকে একটি জেলে নৌকায় করে তাকে মীরগাং এলাকায় আনা হয়। পরে মোটরসাইকেলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দরবন বাজারে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মীরগাং এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন নজরুল গাজীর ছেলে মাহামুদুল হাসান ডন, সুজা উদ্দিন গাজীর ছেলে জব্বার এবং নেছার আলী গাজীর ছেলে শাহিনুর গাজী।
অপহৃত অনিমেষ পরমান্যের ভাই প্রিয়নাথ পরমান্য জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দরবন বাজার থেকে অসুস্থ গরুর চিকিৎসার কথা বলে অনিমেষকে ডেকে নিয়ে অপহরণ করা হয়। পরে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় শনিবার রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর প্রশাসন অনিমেষকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। বনদস্যুদের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার রাত ৯টার দিকে সাত লাখ টাকা নিয়ে মীরগাং এলাকায় যান অনিমেষের স্ত্রী সবিতা রানী পরমান্য ও তার ভাই দেবদাস। তবে পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে অপহরণকারীরা সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে সোমবার সকালে ধোলাই খাল এলাকা থেকে অনিমেষকে মুক্তি দেওয়া হয়।
উদ্ধারের পর তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

অপহৃত অনিমেষ পরমান্য জানান, ট্যাংরাখালী এলাকার জিয়াদ মেম্বারের জামাতা আশরাফ ভারতীয় অসুস্থ গরু চিকিৎসার কথা বলে তাকে শনিবার সকালে সুন্দরবন বাজার থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সুন্দরবনের ভেতরে নিয়ে তার নিজের মোবাইল ফোন থেকেই স্ত্রী সবিতা রানীর কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ সময় তাকে শারীরিক নির্যাতনও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মীরগাং গ্রামের শাহিনুর দাবি করেন, রোববার সন্ধ্যায় মাহামুদুল ও জব্বার তাকে বিকাশে টাকা ও খাবার পৌঁছে দিতে বলেন। পরে তিনি ধোলাই খাল এলাকায় গিয়ে অনিমেষকে খাবার দিয়ে আসেন। সেখানে তিনজন ব্যক্তি অবস্থান করছিল বলে জানান তিনি।
তবে স্থানীয় একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মীরগাং গ্রামের সাগর ভাঙ্গির স্ত্রী মক্ষীরানী প্রিয়াঙ্কা মন্ডল, আনারুলসহ কয়েকজনের সঙ্গে পরামর্শ করেই মাহামুদুল ও জব্বার অপহরণের পরিকল্পনা করে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন, রোববার রাতে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের সমন্বয়ে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা সোমবার সকালেই অনিমেষকে মুক্তি দেয়। বর্তমানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মাহামুদুল, জব্বার ও শাহিনুর গাজীকে আটক করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ২ মে সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন অনিমেষ পরমান্য। সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে বিকেলে তার মোবাইল ফোন থেকেই পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।




















