সারাদেশ

১৯ দিন পর ভারত থেকে ফিরল নিখোঁজ জেলের মরদেহ

  মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল, দিনাজপুর প্রতিনিধি: ২০ মে ২০২৬ , ৫:৫৬:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পুনর্ভবা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া বৃদ্ধ জেলে মো. ইসমাইল হক (৬৫) মরদেহ দীর্ঘ ১৯ দিন পর ভারত থেকে দেশে ফিরেছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে হিলি চেকপোস্ট সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
মরদেহ দেশে ফেরার সময় হিলি সীমান্তে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিহত ইসমাইল হক দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের কামদেবপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের এএসআই আব্দুল তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে কামদেবপুর চান্দামারী পুরানঘাট এলাকায় পুনর্ভবা নদীতে মাছ ধরতে যান ইসমাইল হক। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর, গত ৩ মে ভারতের গঙ্গারামপুর থানার যাদববাটি বাটুলপাড়া নদীর ঘাট এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করে ভারতীয় পুলিশ। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি ইসমাইল হকের বলে শনাক্ত করেন।
মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা হয়। তবে দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করতে সময় লাগায় মরদেহ ফেরত পেতে ১৯ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে পরিবারটিকে।
নিহতের বড় ছেলে হায়দার আলী বলেন, প্রতিদিন বাবার মরদেহ ফেরত পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করেছি। অবশেষে বাবাকে দেশে আনতে পেরেছি। এখন অন্তত তাকে নিজের মাটিতে দাফন করতে পারব।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহটি বালুরঘাট হয়ে হিলি চেকপোস্টে নিয়ে আসে।
বুধবার দুপুরে হিলি চেকপোস্টের নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় দুই দেশের বিজিবি, বিএসএফ ও ইমিগ্রেশন পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ সময় ভারতের পক্ষে ১৫১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার নিশিত লাহা ও ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তা অতুল কুমার ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের পক্ষে হিলি ইমিগ্রেশনের এএসআই আব্দুল তালেব, বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মরদেহ গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

আরও খবর

Sponsered content