প্রতিনিধি ২৩ মে ২০২৬ , ১২:৩৮:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এমন তথ্য জানিয়েছে বিবিসির নিউজ পার্টনার সিবিএস নিউজ। পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন শুক্রবার সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করছিল। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ‘সরকারি দায়িত্ব’ পালনের কারণে তিনি শনিবার ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
সাপ্তাহিক ছুটি নিউ জার্সিতে নিজের গলফ রিসোর্টে কাটানোর পরিকল্পনা থাকলেও তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্য তাদের নির্ধারিত ছুটি বাতিল করেছেন। সম্ভাব্য নতুন হামলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে প্রস্তুত সেনাদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু সেনা প্রত্যাহারের কাজও চলছে, যাতে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি সীমিত রাখা এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি একে অপরের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা থেকে অনেকটাই বিরত রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘ট্রাম্প তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও রাখতে পারবে না।’
হরমুজ প্রণালিতে নাবিকদের দুর্ভোগ
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা তুলে ধরে ইরানের নতুন মানচিত্র প্রকাশের পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা হাজারো নাবিকের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরে প্রায় ২০ হাজারের বেশি নাবিক আটকা পড়ে আছেন। তাদের অনেকে জাহাজ ছেড়ে যেতে পারছেন না এবং খাদ্য ও পানির সংকটে ভুগছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
গত কয়েক সপ্তাহে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা নাবিকরা কঠিন জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাদের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক ইউনিয়নও পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
গত মাসে আটকে থাকা একটি জাহাজ থেকে ফোনে ভারতীয় নাবিক সালমান সিদ্দিক রয়টার্সকে বলেন, “আমরা এখানে শুধু রাত পার করার পরিকল্পনা করি এবং প্রার্থনা করি যেন কোনো হামলার লক্ষ্যবস্তু না হই।”
এই সপ্তাহে সৌদি আরব উপকূলের কাছে নোঙর করা জাহাজ পরিদর্শনে গিয়ে রয়টার্সের সাংবাদিকরা একটি তেলবাহী জাহাজের নাবিকদের রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে হাত নাড়তে দেখেছেন।
রয়টার্সের বর্ণনায়, প্রায় তিন মাস ধরে এসব নাবিক বিচ্ছিন্ন অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন। ছোট কক্ষ, যৌথ খাবারঘর এবং প্রখর রোদে উত্তপ্ত জাহাজের ডেকে সীমিত সংখ্যক সহকর্মীর সঙ্গে সময় কাটছে তাদের।
তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই নিশ্চিত করেছেন যে শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে অবস্থান করছিল এবং তারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেছে।
টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়ের অনেক দেশ যুদ্ধ বন্ধ ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে সহায়তার চেষ্টা করছে।’
তবে তিনি বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এর আগে রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে।
সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের অনুরোধে ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছিল।
তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির এবং তার সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দল শুক্রবার সন্ধ্যায় তেহরানে পৌঁছেছেন।
ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (ইরনা) জানিয়েছে, তেহরানে তাকে স্বাগত জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দর মোমেনি। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিও বুধবার থেকে তেহরানে অবস্থান করছেন এবং অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে পাকিস্তান আর্মি জানিয়েছে, আসিম মুনিরের এই সফরের উদ্দেশ্য হলো “ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে” আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।














