সারাদেশ

জামায়াতের ওয়ার্ড আমিরের জমি দখল করল ইউনিয়ন আমির

  প্রতিনিধি ২৫ মে ২০২৬ , ৯:০২:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়ন জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে ওয়ার্ড আমিরের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১৮ মে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওয়ার্ড আমির আছির উদ্দিন।

অভিযুক্তের নাম খলিলুর রহমান। তিনি উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নে আমির।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের জামায়াতের আমির আছির উদ্দিন কৃষি কাজ করে সঞ্চিত টাকায় গত ২০২২ সালের ১২ মে দলিল মুলে বাড়ির পাশের ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেই জমি নিজ বাড়ি সংলগ্ন হওয়ায় নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে নিয়েছেন রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির খলিলুর রহমান। পরবর্তীতে তা ফেরত চেয়েও পাননি ওয়ার্ড আমির আছির উদ্দিন। যা নিয়ে জামায়াতের ইউনিয়ন, উপজেলা তথা জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাড়স্থ হন। তারা দখলে নেওয়া জমি ফেরত দিতে বললেও কোনো সুরাহা হয়নি।

অবশেষে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচারপ্রার্থী হলে একাধিকবার বৈঠক হলেও কোনো পাত্তা দেননি প্রভাবশালী জামায়াত ইউনিয়ন আমির খলিলুর রহমান। সর্বশেষ গত ১৮ মে জমি উদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে ইউনিয়ন আমির খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওয়ার্ড আমির আছির উদ্দিন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আছির উদ্দিন বলেন, ‘রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে তাকে জমিটা ব্যবহার করতে দিয়েছিলাম। এখন দেশের পট পরিবর্তন হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবে আমাকে আমার জমি দখলে দিচ্ছে না। দলের ভাবমুর্তি রক্ষায় এতদিন কোনো অভিযোগ করিনি। দলীয় জেলা উপজেলার নেতাদের বলে সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নামে এসব নেতা অন্যের সম্পদ জবর দখল করে আত্নসাৎ করে। এমন নেতার কারণে শুধু দলের নয়, জনগণেরও ক্ষতি হয়।’ তিনি দ্রুত তার জমি ফেরতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

দূর্গাপুর ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানী বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে বৈঠকে ওয়ার্ড আমির আছির উদ্দিন দলিলসহ সব কাগজ সঠিক দেখে জমি ফেরত দিতে বলেছি। কিন্তু ইউনিয়ন আমির তা মানেননি। আমরাও চাই, আছির উদ্দিন তার কষ্টার্জিত সম্পত্তি ফিরে পাক।’

অভিযুক্ত ইউনিয়ন আমির খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমি জবর দখল করিনি, তার কাছে কাগজ থাকলেও দখল সুত্রে ওই জমির মালিক আমি। এর বাহিরে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।’

লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু বলেন, বিষয়টি মৌখিক ভাবে জানিয়েছিলেন ওয়ার্ড আমির আছির উদ্দিন। ওনাকে কাগজপত্র নিয়ে ডেকেছিলাম, যেহেতু আমি নিজে একজন আইনজীবী। তিনি না আসায় সমাধানের সুযোগ হয়নি। তবে কাগজপত্র দেখে সমাধান করা হবে বলেও আশ্বাস্থ করেন তিনি।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজমুল হক বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও খবর

Sponsered content