বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি ৪ জুন ২০২৬ , ৬:০৬:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ঠিকাদার রবিউল ইসলাম বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক লিখিত অভিযোগে এ দাবি করেন। ঘটনাটি নিয়ে পৌরসভা এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে রবিউল ইসলাম বলেন, তিনি বাঘা পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত ঠিকাদার। বাঘা পৌরসভার কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি কাজ ছয় মাস আগে সম্পন্ন করলেও গত পাঁচ মাস ধরে বিল পরিশোধের জন্য ঘুরছেন। এ সময় সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম তার কাছে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রবিউল ইসলামের দাবি, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এখন পর্যন্ত তার বকেয়া বিল পরিশোধ করা হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি প্রকল্পের আওতায় বাঘা-আড়ানী সড়ক থেকে সাহারা কাউন্সিলর বাড়ি ও বুলবুলের বাড়ি পর্যন্ত ২৫০ মিটার রাস্তা নির্মাণকাজ তার স্ত্রী নিশাত জাহানের প্রতিষ্ঠান ‘মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন’ লটারির মাধ্যমে পায়। গত ১৮ মে প্রকল্পটির উদ্বোধনের পর কাজ শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ জুন রাস্তার গাঁথুনির মান নিয়ে আপত্তি তুলে সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরদিন বকেয়া বিলের বিষয়ে কথা বলতে গেলে পূর্বের ৩ লাখ টাকা এবং নতুন কাজের জন্য ১ লাখ টাকাসহ মোট ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রবিউল ইসলাম আরও দাবি করেন, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম তার ফাইল ছুড়ে ফেলে দেন এবং তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে চেয়ার তোলেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনি অফিসে আসেন, সামনাসামনি কথা হবে।” এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শাম্মী আক্তার বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা তথ্য আমার জানা নেই। তাই এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।”
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।














