মো. সাদমান সাকিব দিশান, জবি প্রতিনিধি ১৪ জুন ২০২৬ , ১১:৪৭:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) হল নির্মাণকাজে বাধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি এবং সম্পূরক বৃত্তি বাস্তবায়ন ইস্যুতে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেছে জবি ছাত্রশক্তি। একই সঙ্গে হল নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির নেতারা।
শনিবার (১৪ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে বিশেষ বৃত্তি বাস্তবায়ন ও বাজেট বৃদ্ধির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা।
সমাবেশে জবি ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেন, “পুরান ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলের নির্মাণকাজ স্থানীয় কিছু লোকজন দিয়ে বারবার বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা এর পেছনে ইন্ধন দিচ্ছে, তা আমরা জানি। এই চক্রান্ত বন্ধ না হলে শিক্ষার্থীদের সামনে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে। হল নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটে ভুগছেন। তাই হল নির্মাণকাজে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা মেনে নেওয়া হবে না।”
জবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, “প্রতিষ্ঠার ১৬০ বছরের ইতিহাসে বিভিন্ন সরকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও জবির বরাদ্দ সবসময়ই তুলনামূলক কম ছিল।”
তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ১০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি এবং সম্পূরক বৃত্তি চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সে প্রতিশ্রুতির পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।
ফয়সাল মুরাদ বলেন, “প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের বাজেট ১০০ কোটি টাকা বাড়ানোর কথা থাকলেও সম্পূরক বৃত্তির জন্য মাত্র ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ট্রেজারারের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, তৎকালীন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পূরক বৃত্তির বিষয়টি অনুমোদন দেয়নি। অথচ এ তথ্য শিক্ষার্থীদের সামনে কখনো তুলে ধরা হয়নি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। অতীতে প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন কোটি কোটি টাকার সুবিধা পেলেও এখন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে তারা কোনো অবস্থান নিচ্ছে না।”
সমাবেশ থেকে ছাত্রশক্তির নেতারা দ্রুত হল নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি, সম্পূরক বৃত্তি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি হল নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।




















