শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

জবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চার শিক্ষার্থীর ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন

  জবি প্রতিনিধি: ১৬ জুন ২০২৬ , ১১:৩৬:০২ প্রিন্ট সংস্করণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে একাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণামুখী সাফল্য এবং পেশাগত অগ্রযাত্রার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিভাগের চার কৃতী শিক্ষার্থী। ২০১৬-২০১৭ থেকে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিভাগের চার শিক্ষার্থী ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।

এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা হলেন— এম. এম. শাহ পরান রানা (২০১৬-২০১৭), সিয়াম-উর-রহমান খান (২০১৭-২০১৮), ঐন্দ্রিলা রাণী সরকার (২০১৮-২০১৯) এবং হুমায়রা তাবাসসুম রাইয়ান (২০১৯-২০২০)।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, ডিনস অ্যাওয়ার্ড অনুষদভিত্তিক অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ একাডেমিক সম্মাননা। প্রতি শিক্ষাবর্ষে সংশ্লিষ্ট অনুষদের প্রতিটি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে শুধু সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করলেই হয় না; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করা, ন্যূনতম ৩.৭৫ সিজিপিএ অর্জন, কোনো কোর্সে পুনঃপরীক্ষা বা মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ না নেওয়াসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। পাশাপাশি উপস্থিতি, শৃঙ্খলা ও সামগ্রিক একাডেমিক আচরণও মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ৩.৮৮ সিজিপিএ অর্জন করে ডিনস অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন এম. এম. শাহ পরান রানা। তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা-লিংকনের কলেজ অব আর্কিটেকচারে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া তিনি ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)-এ জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং অ্যানালিস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও জিওস্পেশাল প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণায় তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তিনি এনএসটি ফেলোশিপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ওথমার ফেলোশিপসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।

২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম-উর-রহমান খান স্নাতকে ৩.৮৬ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৯৬ সিজিপিএ অর্জন করে ডিনস অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। বর্তমানে তিনি ডিজাইন, প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেড (ডিপিএম)-এ জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র।

২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ঐন্দ্রিলা রাণী সরকার ৩.৯৩ সিজিপিএ অর্জন করে ডিনস অ্যাওয়ার্ড পান। তিনি স্নাতক পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিবাসন বিষয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত। তিনি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন এবং এনএসটি ফেলোশিপ, মাস্টার্স থিসিস রিসার্চ স্কলারশিপ ও ‘শি ফর ক্লাইমেট’ ফেলোশিপসহ একাধিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন হুমায়রা তাবাসসুম রাইয়ান। স্নাতক পর্যায়ে তিনি ৩.৯০ সিজিপিএ অর্জন করেন এবং বর্তমানে একই বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত। তিনি জিআইএস, আর্কজিআইএস, কিউজিআইএস, ইআরডিএএস ইমাজিনসহ বিভিন্ন জিওস্পেশাল প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং গবেষণাভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করে এম. এম. শাহ পরান রানা বলেন, “ডিনস অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনে উৎসাহিত করবে এবং ভালো ফলাফলের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কিংবা পেশাগত অঙ্গন— উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকতা ও নিয়মিত পরিশ্রম সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ভালো ফলাফলের জন্য পুরো সেমিস্টারজুড়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, শিক্ষকদের পাঠ মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ এবং বিষয়ভিত্তিক গভীর অনুধাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বিভাগটির শিক্ষার্থীদের এ ধারাবাহিক সাফল্য ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের একাডেমিক মান, গবেষণার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের উজ্জ্বল প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও খবর

Sponsered content