মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি ১৭ জুন ২০২৬ , ১১:৩৩:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় একটি আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, জমি দখলের চেষ্টা, মাছ ধরে নেওয়া এবং গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগী রাসন্তি জানান, পৈতৃক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসলেও সম্প্রতি একদল লোক এসে তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।
আরেক ভুক্তভোগী কাকলি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বসার কথা থাকলেও অভিযুক্তরা কোনো আলোচনায় না গিয়ে আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। আমরা জমিটি বৈধভাবে কিনেছি এবং এর দলিলও রয়েছে। তারপরও তারা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে।”
প্রতিবেশী বাসন্তী জানান, তিনি ও তার মেয়ে বাড়িতে অবস্থানকালে একদল লোক এসে কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বাড়িঘর ভাঙচুর চালায় এবং বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বাবলু সরকার বলেন, “বাড়ি ভাঙচুর শুরু হলে আমরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে থানায় অভিযোগ করেছি, তবে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখতে পাইনি।”
থানা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, পুঠিয়া উপজেলার ধোগ্রাকুল মৌজার জে.এল. নং-২০৩ এর হাল দাগ নং ৩১৭১ ও ৩১৫৭-এর মোট ৩৭ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে আদালতে ১৪৪ ধারায় আবেদনও করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জমিটি তাদের পূর্বপুরুষদের মালিকানাধীন এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্প্রতি অভিযুক্তরা ওই জমির মালিকানা দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করে। গত ১২ জুন সকালে দলবদ্ধ হয়ে এসে তারা জমিতে প্রবেশ করে বসতঘর ভাঙচুর, নগদ এক লাখ টাকা ও প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোস্তফা সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, “কাগজপত্র নিয়ে আসুক, তারপর কথা হবে।” তবে তার স্ত্রী বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, “ঘটনার বিষয়টি জেনে খারাপ লেগেছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে।”
এদিকে, ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।




















