হামিদুল ইসলাম, মেহেরপুর প্রতিনিধি: ১১ মার্চ ২০২৬ , ১:৪২:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণ ও প্যানেল চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এলাঙ্গী গ্রামের মোশাররফ হোসেন কালু, স্থানীয় বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম ও রাসেল আহমেদকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে আলফাজ উদ্দিন কালুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা থেকেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালুর সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে কড়ইগাছি মোড়ে অবস্থান নেন। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলামের সমর্থকরা রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করছিলেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পর রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন সেপুকে সরিয়ে দিয়ে ওয়ার্ড সদস্য সারগিদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু ও তার সমর্থকদের দাবি, সারগিদুল ইসলাম অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন এবং গরিবদের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন সুবিধা নিজের লোকজনের মধ্যে বণ্টন করছেন। এর প্রতিবাদ জানাতে তারা সেখানে উপস্থিত হন।
অন্যদিকে সারগিদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণের কথা ছিল। তবে প্রতিপক্ষ ভিজিএফের চাল লুট করার পরিকল্পনা করছে বলে খবর পেয়ে তিনি ও তার সমর্থকরা ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থান নেন।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাশ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।




















