আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭১৯

  প্রতিনিধি ৩০ জুন ২০২৬ , ১২:২৫:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে পরপর দুটি ভূমিকম্পের পরও উদ্ধার অভিযান এখনও শেষ হয়নি। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, যার ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের বিষয়টি অনেকটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম লা গুয়াইরা বন্দরের বাসিন্দারা শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল ব্যবহার করে তাদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার ভোরে দেশটিতে একটি পরাঘাত অনুভূত হলেও নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে অভিহিত করেছেন। বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে, যদিও সোমবার ভোরে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বিবিসির তথ্যমতে, গত বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। সর্বশেষ সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর রাস্তায় ভেনেজুয়েলার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও উদ্ধারকাজে তাদের তেমন দেখা যায়নি বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারাকাসের পশ্চিমে অবস্থিত এল জুনকুইতোর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে কৃষক ও সাধারণ মানুষই দুর্গতদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করছেন। তবে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন যে, ২৫ হাজারেরও বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য বর্তমানে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুতদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবির তৈরি করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো জানান, ভূমিকম্পের পর ৫০০টিরও বেশি পরাঘাত হয়েছে এবং অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে জাতিসংঘ ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে, যার ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content