প্রচ্ছদ

মান্দা এলজিইডি অফিসে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ: একযুগ ধরে কর্মরত সার্ভেয়ার খলিলুর রহমান

  প্রতিনিধি ২১ জুলাই ২০২৫ , ৮:০৮:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) কর্মরত সার্ভেয়ার খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে একযুগ ধরে একই স্টেশনে থেকে প্রভাব খাটিয়ে ঘুষ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন এক জায়গায় কর্মরত থেকে খলিলুর রহমান উপজেলা পর্যায়ে একধরনের ‘অঘোষিত কর্তৃত্ব’ গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন ঠিকাদার, রাজনৈতিক নেতা এবং এলজিইডি কর্মকর্তাদের সাথে গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে নিম্নমানের কাজ, অতিরিক্ত বিল অনুমোদনসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি।

উপজেলা বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দাপটের সাথে চাকরি করেছেন খলিল। এখনও তার বিরুদ্ধে নানা গুঞ্জন চলছে। অচিরেই ব্যবস্থা না নিলে এই দুর্নীতিবাজ চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”

এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, “আমি সিডিউল অনুযায়ী কাজ করেছি। তারপরও খলিলুর রহমান আমার কাছে ‘পিসি’ দাবি করেন। সঠিকভাবে কাজ করার পরেও হয়রানি করেছি তিনি।”

মৈনম ফকিরপাড়া গ্রামের আতাউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আমার বাড়ির পাশের রাস্তায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করেছেন খলিল। প্রতিবাদ করলে তিনি বরং ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন।”

এলজিইডির একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, “খলিল মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজকে সহায়তা করেছেন। এতে করে এলজিইডির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।”

এই প্রসঙ্গে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার খলিলুর রহমান বলেন, “মান্দায় আমার দীর্ঘদিনের চাকরি সত্য। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন, “আমার কাছে এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। তাই আমি কিছু জানি না। তবে সার্ভেয়ার ও ঠিকাদারদের মধ্যে কোনো অনৈতিক লেনদেন হয়ে থাকলে তা তদন্ত সাপেক্ষে দেখা যেতে পারে।”

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দীর্ঘদিন একই স্টেশনে কর্মরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এলজিইডিকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা হোক।

Ask ChatGPT

আরও খবর

Sponsered content