চাকরি

চিলমারীতে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তরুণ ৪ সাংবাদিক

  প্রতিনিধি ১৮ আগস্ট ২০২৫ , ১০:৫৪:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ

স্টাফ রিপোর্টারঃ অভাব-অনটনের করুণ বাস্তবতায় দিন কাটছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের পুটিমারী এলাকার দিনমজুর রফিকুল ইসলামের পরিবারের। বাঁধের পাশে ছোট্ট ঘরে স্ত্রী স্বপ্না বেগম ও পাঁচ সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রতিদিনের অল্প আয়ে সংসারের খরচ চালানো তাঁর জন্য এক অসম্ভব যুদ্ধ। অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে সন্তানের মুখে নিয়মিত খাবার তুলে দেওয়া যেন তাঁর কাছে দুঃস্বপ্নের মতো।

সাত সন্তানের মধ্যে ইতোমধ্যে দুইজনকে হারিয়েছেন রফিকুল দম্পতি। বাকি সন্তানদের জীবনের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তাঁরা। অনেক সময় খেত থেকে কচু তুলে রান্না করেন, আবার কখনো না খেয়েই সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দেন স্বপ্না বেগম। একসময় পড়াশোনায় মনোযোগী থাকা ১৩ বছরের ছেলে আবু সায়েম সংসারের দায়ভার সামলাতে গিয়ে বাধ্য হয়েছে স্কুল ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে কাজ করতে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। চিকিৎসার ব্যয় বহন তো দূরের কথা, তাদের হাঁড়িতে নিয়মিত রান্না হয় না।

গত ৮ আগস্ট জাতীয় দৈনিকের একাধিক পত্রিকায় রফিকুল পরিবারের করুণ চিত্র প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রেসক্লাব উলিপুরের চার তরুণ সাংবাদিক— নুর মোহাম্মদ রোকন, মোহাইমিনুল ইসলাম, শাহাজাহান খন্দকার ও সোহেল রানা সিপনের। তারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিবারটির পাশে দাঁড়ান।

১৭ আগস্ট বিকেলে রফিকুলের হাতে তুলে দেন এক সপ্তাহের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। এর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, আটা, সুজি, চিড়া, সেমাই, বিস্কুট, সবজি ও মুরগি।

অসহায় রফিকুল ইসলাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “একদিন কাজ করি, সেই টাকায় দুই দিন চলে। কিন্তু অসুস্থ স্ত্রী আর পাঁচটি সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানো খুবই কঠিন। অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়।”

স্বপ্না বেগম কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান,“ঘরে খাবার না থাকায় বাধ্য হয়ে কচু ফুল দিয়ে ডাল রান্না করেছিলাম। আজ সাংবাদিক ভাইয়েরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।”

সহায়তাকারী সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ রোকন বলেন,“আমরা পেশায় সাংবাদিক হলেও মানুষ হিসেবে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করেছি। সমাজের বিত্তবানরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে আর কোনো পরিবারকে অনাহারে দিন কাটাতে হবে না।”

দেশজুড়ে অসংখ্য রফিকুল ও স্বপ্নার মতো পরিবার আছে, যারা প্রতিদিন অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। কারও সন্তান না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, আবার কারও ছোট্ট বয়সেই স্কুলের বদলে কর্মজীবনে নামতে হয়।

তাই সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ একটু সহায়তা করুন, একটি পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে আপনার সামান্য দানই হতে পারে তাদের জীবনের বড় আশীর্বাদ।

আরও খবর

Sponsered content