প্রতিনিধি ৫ জুলাই ২০২৬ , ১১:০০:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
ফুটবলে ‘পেনাল্টি’ (Penalty) শব্দটির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। তবে নিয়মিত খেলা দেখেন এমন অধিকাংশ মানুষই বহুল প্রচলিত এই শব্দের আসল বাংলা অর্থ জানেন না। ফুটবলে ‘পেনাল্টি’ (Penalty) শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘শাস্তি’ বা ‘দণ্ড’। যখন কোনো দলের খেলোয়াড় নিজেদের ডি-বক্সের (Penalty Area) ভেতর গুরুতর কোনো ফাউল বা নিয়মভঙ্গ করেন, তখন প্রতিপক্ষ দলকে শাস্তি হিসেবে সরাসরি গোল করার একটি সুবর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়। এটিই ফুটবলে পেনাল্টি কিক নামে পরিচিত।
আইন বা প্রাত্যহিক জীবনের ক্ষেত্রে নিয়ম অমান্য করলে আর্থিক জরিমানা বা শারীরিক সাজা পেতে হয়। একে আমরা ‘আর্থিক দণ্ড’ বা শাস্তি বলি। তবে ফুটবল বা ক্রীড়াঙ্গনে এর প্রয়োগ এবং অর্থ একেবারেই আলাদা। খেলার মাঠে ডি-বক্সের ভেতরে প্রতিপক্ষ দলের কেউ বড় কোনো নিয়ম ভঙ্গ বা ফাউল করলে রেফারি শাস্তিস্বরূপ সরাসরি গোল করার সুযোগ দেন। পরিভাষায় একে ‘পেনাল্টি কিক’ বলে। সহজ বাংলায় যাকে বলা হয় ‘শাস্তিমূলক শট’।
তবে অর্থ না জানলেও খেলার মাঠে সাধারণত আমরা ‘পেনাল্টি’ শব্দটাই সরাসরি ইংরেজি উচ্চারণে ব্যবহার করে থাকি। মজার বিষয় হলো, অপরাধের শাস্তি হিসেবে এর উৎপত্তি হলেও খেলায় ফাউলের শিকার হওয়া দলের জন্য এই পেনাল্টি গোলের এক মহাসুযোগ। পেনাল্টি কিক নেওয়ার সময় গোলরক্ষক আর পেনাল্টিদাতার মধ্যকার কয়েক গজের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই গ্যালারিতে কোটি ভক্তের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে তোলে। তাই সাধারণ বা আইনি জীবনে পেনাল্টি মানেই একরাশ হতাশা ও জরিমানা হলেও সবুজ গালিচায় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি ম্যাচ জয়ের সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড।
পেনাল্টি কীভাবে এবং কেন দেওয়া হয়?
ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দলের খেলোয়াড় যদি নিজেদের পেনাল্টি বক্সের (ডি-বক্স) ভেতরে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে অবৈধভাবে বাধা দেন, ফাউল করেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে বল হাতে স্পর্শ (হ্যান্ডবল) করেন, তবে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
শাস্তিস্বরূপ, গোললাইন থেকে ঠিক ১২ গজ (১১ মিটার) দূরে চিহ্নিত স্থান থেকে প্রতিপক্ষ দলের একজন খেলোয়াড় সরাসরি শট নেওয়ার সুযোগ পান। এই সময় গোলপোস্টের নিচে কেবল প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক একা দাঁড়িয়ে থাকেন। বাকি সব খেলোয়াড়কে পেনাল্টি বক্সের বাইরে অবস্থান করতে হয়।
টাইব্রেকার: ভাগ্যের চরম পরীক্ষা
নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচ নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও সমতায় থাকলে জয়-পরাজয় নির্ধারণে ব্যবহার করা হয় ‘পেনাল্টি শুট-আউট’। এখানে দুই দলই ৫টি করে শট নেওয়ার সুযোগ পায়। পেনাল্টির এই রূপটিকে বলা হয় ভাগ্যের চরম পরীক্ষা। পেনাল্টি কেবল দক্ষতার খেলা নয়, এটি মূলত স্নায়ুর লড়াই। গোলদাতা এবং গোলরক্ষক—উভয়ের জন্যই এটি এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ।
মোটকথা, পেনাল্টি হলো ফুটবলের এমন এক মোড়ক, যার ভেতরে লুকিয়ে থাকে অপরিসীম আনন্দ আর বিষাদের গল্প। ১২ গজের এই লড়াই ফুটবলকে করেছে আরও অনিশ্চিত এবং আরও সুন্দর।





















