জাতীয়

সংসদে হুইল চেয়ারে বসে বক্তব্য দিলেন মির্জা আব্বাস, যা বললেন

  প্রতিনিধি ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৮:২০:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো যোগ দিয়েছেন বিএনপির হয়ে ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। পূর্ণ সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই সংসদ সদস্য। শারীরিক অসুস্থতার জন্য না দাঁড়িয়ে বসেই বক্তব্য রাখেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দীর্ঘ সাড়ে ৫ মাস তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। নির্বাচনের পরপরই একটি দলীয় রাজনৈতিক সভায় অংশ নেওয়া অবস্থায় তিনি স্ট্রোক আক্রান্ত হন। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে হয়েছে। চিকিৎসা শেষ না হলেও এবং শরীর পুরোপুরি সুস্থ না থাকা সত্ত্বেও নিছক ভালোবাসা, আবেগ ও জনগণের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতার জন্য তিনি আজকের সংসদে উপস্থিত হতে বাধ্য হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি এখনো চিকিৎসাধীন। চিকিৎসা শেষ হয়নি, বরং চিকিৎসার মাঝপথে প্রথমবারের মতো সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত হতে পেরে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।’

অসুস্থতার কঠিন সময়ে যারা দোয়া করেছেন, নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন এবং পাশে থেকেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। দলীয় পরিচয়ের বাইরে যারা তার সুস্থতা কামনা করেছেন, তাদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার কিছুটা সুস্থ সাহস জুগিয়েছে।

মির্জা আব্বাস বিশেষভাবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অসুস্থতার সময়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত আমার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। এ জন্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

তিনি বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় স্পিকার নিজে আমাকে দেখতে গিয়েছিলেন। সে সময় আমি অচেতন থাকায় স্পিকারকে দেখতে পারিনি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হই।’

স্পিকারের এই আচরণকে শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক দিকের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য, একজন অসুস্থ মানুষ এবং একজন সহকর্মীর প্রতি স্পিকার হিসেবে যে আন্তরিকতা তিনি দেখিয়েছেন, তা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তিনি বলেন, এই ভালোবাসা ও আন্তরিকতার কথা আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন যাতে আমার নির্বাচনী এলাকা তথা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য জীবনের বাকি সময়টুকু নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করে যেতে পারি।’

আরও খবর

Sponsered content