সাহিত্য

মারা গেলেন শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন

  প্রতিনিধি ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৭:৪১:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার, সাংবাদিক ও গীতিকার আখতার হুসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তার দুই ছেলে পান্থ হুসেন ও প্রমিত হুসেন মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আখতার হুসেন। দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য ছড়া, গল্প, জীবনী, অনুবাদ ও বিভিন্ন ধরনের সাহিত্য রচনা করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে—‘সমুদ্র অনেক বড়’, ‘রামধনুকের সাঁকো’, ‘উল্টোপাল্টা’, ‘হালচাল’, ‘আমার দুটো ডানা’, ‘ও হাওয়া ও হাওয়া’, ‘পাজি বেড়ালের শাস্তি’, ‘ফ্রিডম ফাইটার’, ‘খেলাঘরের পুতুলগুলো’ ও ‘ছোটদের চারণকবি মুকুন্দদাস’।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত পাঁচ খণ্ডের ‘শিশু-বিশ্বকোষ’-এ সর্বাধিকসংখ্যক লেখা রয়েছে তার। তার লেখা ছড়া বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকেও স্থান পেয়েছে। সহজ, প্রাণবন্ত ও ছন্দময় ভাষার কারণে কয়েক প্রজন্মের শিশুর কাছে তার লেখা জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আখতার হুসেনের লেখনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তার লেখা এবং অজিত রায়ের সুরে তিমির নন্দীর গাওয়া ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা’ গানটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। এ ছাড়া তিনি উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণআন্দোলনকে ঘিরে পথনাটক ও গান লিখেছেন। বাম চিন্তাধারায় বিভিন্ন সময় যুক্ত থেকেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, খেলাঘর ও উদীচীর সঙ্গে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের দলীয় সংগীতের রচয়িতা তিনি।

পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতাও করেছেন আখতার হুসেন। দৈনিক সংবাদ, দৈনিক জনকণ্ঠ ও প্রথম আলোসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে কাজ করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রথমা প্রকাশনের পাণ্ডুলিপি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতিপদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি বাংলা একাডেমির ফেলোও ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন আখতার হুসেন। সম্প্রতি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও রক্তচাপ কমে যাওয়ায় তাকে প্রথমে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বারডেম ও গ্রিন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। গত শুক্রবার থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

তার মৃত্যুতে দেশের শিশুসাহিত্য অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আগামীকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাখা হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আখতার হুসেনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

 

আরও খবর

Sponsered content