প্রতিনিধি ৮ নভেম্বর ২০২৬ , ২:৫১:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ আগাম সতর্কতা জারির পরপরই এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এদিকে রিয়াদের আর্থিক জেলায় সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সতর্কবার্তা জারির কিছুক্ষণ পরই তারা কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং রাজধানীর দিকে ছোড়া দুটি হুথি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিভিন্ন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালানো হয়েছে।
সারির দাবি, প্রথম অভিযানে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তেলের সংরক্ষণাগার এবং আরামকোর একটি তেল পরিশোধন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। দ্বিতীয় হামলা চালানো হয় খুরাইস এলাকায় আরামকোর স্থাপনায়। তৃতীয় হামলার লক্ষ্য ছিল দাওয়াদমি এলাকার আট নম্বর পাম্পিং স্টেশন।
এ ছাড়া নজরান এলাকায় সৌদি ন্যাশনাল গার্ডের একটি শিবির, আল-জাওফ অঞ্চলের পূর্বাঞ্চল এবং ইয়েমেনের মারিব প্রদেশসংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় সৌদি সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। এসব হামলায় সৌদি সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি আরব ১০৫টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে তাঁর অভিযোগ। হুথিদের দাবি, সংঘাত শুরুর পর থেকে ইয়েমেনে সৌদি হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৬৯টিতে।
হুথি মুখপাত্র আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে হামলা অব্যাহত রাখবে তাদের বাহিনী। তার ভাষায়, অবরোধের জবাব অবরোধ এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির জবাব আরও উত্তেজনা দিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হুথিদের সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লেবাননের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা এ ধরনের সহায়তা বন্ধে দুই দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।
নতুন করে সংঘাত শুরুর ফলে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। ওই সমঝোতার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও সানা নিয়ন্ত্রণকারী হুথিদের মধ্যে হামলা অনেকটাই বন্ধ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা আবারও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এই উত্তেজনা ইয়েমেনের ১২ বছর ধরে চলা যুদ্ধকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। এতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে আরব বিশ্বের দরিদ্রতম দেশটি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের সর্বশেষ দফা শুরুর পর গত অক্টোবর পর্যন্ত ২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।















