প্রতিনিধি ৪ নভেম্বর ২০২৫ , ৫:৫৮:১১ প্রিন্ট সংস্করণ
ভ্যাপসা গরমটা আর নেই। আবার সেভাবে শীতটাও পড়েনি। তবে হেমন্তের হিমেল হাওয়া নিয়ে এসেছে শীতের আগমনী বার্তা। আর তাই সময় হয়েছে গরমের হালকা-পাতলা পোশাকগুলো বদলে তুলে রাখা, একটু ভারী পোশাকগুলো নামিয়ে নেওয়ার। কেমন হবে আপনার এই সময়ের উপযোগী পোশাক? পরামর্শ দিয়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনার মিতুল। বিস্তারিত জানাচ্ছেন লাবণ্য লিপি
হেমন্তের এই সময়টা ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য দারুণ। কারণ না গরম না শীত, এই আবহাওয়াটা সাজ-পোশাকের জন্য ভীষণই উপযোগী। গরমের সময় সাজগোজ করলে যে অস্বস্তি হয়, এখন আর তা হবে না। আবার শীত তাড়াতে ভারী পোশাক পরে জবুথবু হয়েও থাকতে হবে না। বরং গরমের কারণে তুলে রাখা একটু ডিজাইন করে বানানো আনারকলি, নায়রা, লম্বা শ্রাগ, কটিগুলো নামিয়ে পরার এখনই সময়।
এই হালকা হালকা শীতে তরুণদের কাছে ডেনিমের পোশাক খুবই জনপ্রিয়। তবে পোশাকে বৈচিত্র্য আনতে সব ধরনের পোশাকই পরা যেতে পারে, বলছিলেন উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন ডিজাইনার আবেদা খাতুন মিতুল। মিতুল বলেন, পোশাকের ডিজাইন নিয়ে এ সময়ে একটু ফিউশন করা যায়। পোশাকের ফেব্রিক, কাটিং ও রঙ নিয়ে দারুণ খেলা করা যেতে পারে। যারা ডাবল লেয়ার কামিজ পছন্দ করেন, এখন বানিয়ে নিন। অথবা টপস বা ইনারের সঙ্গে একটা ফ্যাশনেবল লম্বা শ্রাগই আপনাকে দিতে পারে গর্জিয়াস লুক। কুর্তির ডিজাইনেও ফিউশন করা যেতে পারে। কুর্তিতে প্যাটার্ন ওয়ার্কে কয়েকটা লেয়ার দিয়ে আনা যেতে পারে নতুনত্ব। এমন পরিবর্তন আনা যেতে পারে হাতার ডিজাইনেও। যারা ফুল হাতা পছন্দ করেন, এখন সময় আপনাদের। এছাড়া যারা ব্লকের পোশাক পছন্দ করেন অথচ গরম লাগে বলে এড়িয়ে যান, তারা কিন্তু এখন বিন্দাস ব্লকের সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি পরতে পারেন। এ সময়ে খাদির পোশাকও বেশ আরামদায়ক লাগে। তাঁতে বোনা ভারী কাপড়েও এখন আরাম পাওয়া যাবে। আর রঙ নিয়ে খেলা করার একদম উপযুক্ত সময়। গরমে তো হালকা রঙগুলো পরেছেন। এখন ট্রাই করতে পারেন উজ্জ্বল এবং গাঢ় রঙগুলো। নীল, গোলাপি, বেগুনির বিভিন্ন শেড এখন ফ্যাশনে ট্রেন্ড। এছাড়াও হেমন্তে হলুদের বিভিন্ন শেডও ভালো লাগে। এই সময়ে কটি বা হালকা ক্রপ জ্যাকেট যেমন আরামদায়ক, তেমনি ফ্যাশনেও যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। যে কোনো পোশাকের সঙ্গে হালকা একটা ডিজাইন করা কটি আপনাকে দিতে পারে নতুন লুক। জিন্সের সঙ্গে একটা কামিজ বা গেঞ্জির ওপর একটা শ্রাগ পরেই আনা যেতে পারে ক্যাজুয়াল বা ফর্মাল লুক। শ্রাগ হাতা কাটা বা ফুল হাতা, থ্রি কোয়াটার হাতা, সব ধরনের ডিজাইনেরই পাওয়া যায়। ভেতরের জামা হাতা কাটা হলে শ্রাগ বেছে নিতে পারেন ফুল হাতার। আবার জামাটা ফুল হাতা বা থ্রি কোয়াটার হাতার হলে শ্রাগ বা কটি হাতা কাটা ভালো লাগবে। যারা শাড়ি পরেন তারাও অনায়াসে বেছে নিতে পারেন কটি। শাড়ির সঙ্গে লং বা শর্ট কটি এখন ফ্যাশনে ভীষণভাবে চলছে। এমনকি খুব সাধারণ একটা শাড়ি পরে ওপরে একটা কটি পরলে সেটা দারুণ একটা গর্জিয়াস লুক আনে। আর শীতে সিল্ক বা ডিজাইন করা শাড়ির চাহিদাও থাকে বেশি। আসলে আরামদায়ক এই সময়টায় ফ্যাশন করতে পারেন আপনি ইচ্ছা মতো। মনের শখ মিটিয়ে।
মুক্ত সংস্কৃতির এই সময়ে ফ্যাশন ট্রেন্ড সম্পর্কে তরুণরা সব সময়ই সচেতন। ফ্যাশনে নতুন কী আসছে, কোনটা চলে যাচ্ছে ট্রেন্ডের বাইরে, এটা থাকে তাদের নখদর্পণে। ফ্যাশন ডিজাইনাররাও তাই দেশীয় পোশাকে বিদেশি নকশা, কাটিংয়ে ফিউশন ঘটিয়ে পোশাকে আনেন নতুনত্ব। এছাড়াও পোশাক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমাইজ করেও পোশাকে বৈচিত্র্য আনেন। যেমন শাড়ির ডিজাইনের সঙ্গে মিলিয়ে চাদর বা শালও ডিজাইন করে দেন। আবার কেউ হয়তো জামদানি পরবেন। কিন্তু শাড়িতে কমফরটেবল নন, তিনি হয়তো জামদানি দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন একটা লং কটি। বাজার ঘুরে দেখা গেছে এরই মধ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আউটলেটগুলোতে হালকা শীতের পোশাক চলে এসেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডেনিমের পোশাকগুলোর চাহিদা রয়েছে। চাহিদা রয়েছে ফ্লানেল কাপড়ের তৈরি পোশাকেরও। এছাড়াও ঢিলেঢালা কাটিংয়ের প্যাটার্নের পোশাকগুলোই চলে বেশি। তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ক্রপ প্যাটার্নের পোশাকগুলো। এই সময়ের ট্রেন্ডি পোশাক পাওয়া যাবে আড়ং, দেশিদশসহ অন্যান্য ব্র্যান্ডে।














