আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি: ৫ এপ্রিল ২০২৬ , ৯:৫০:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের জবসেন গ্রামে গাছ ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে এক ক্রেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মোঃ কাওছার পাইক (পিতা: জব্বার পাইক) গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় তার কানে মারাত্মক জখম হয় এবং সেলাই দিতে হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের বাসিন্দা রফিজ পাইক (পিতা: রশিদ পাইক)-এর কাছ থেকে কিছুদিন আগে কয়েকটি গাছ ক্রয় করেন কাওছার পাইক। পরে গাছ কাটতে গেলে রফিজ পাইকের কাকা তিনটি গাছ কাটতে বাধা দেন এবং ওই গাছগুলোর মালিকানা দাবি করেন। এ সময় বিষয়টি সমাধানের জন্য রফিজ পাইকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করে কেটে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে তিনটি গাছ কাটা সম্ভব না হলেও কাওছার পাইককে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক বসানো হলেও রফিজ পাইক তা অমান্য করেন এবং টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এর জেরে সম্প্রতি জবসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে একটি চায়ের দোকানে কাওছার পাইক টাকা ফেরত চাইলে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার কানে গুরুতর আঘাত শনাক্ত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে তার বাম কানে সাতটি সেলাই দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী কাওছার পাইক অভিযোগ করেন, নিজের টাকায় গাছ কিনেও তিনি প্রতারণা ও হামলার শিকার হয়েছেন। হামলার ফলে তার কানে শ্রবণশক্তি কমে গেছে বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলের এমন পরিণতির বিচার চাই। প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।





















