ডেস্ক রিপোর্ট : ৭ মার্চ ২০২৬ , ১২:০৮:১২ প্রিন্ট সংস্করণ
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
সেই ভাষণে তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান। ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি ঘোষণা করেন, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এই আহ্বান বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার লড়াইয়ের দিকনির্দেশনা দেয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রেরণা। এই ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশজুড়ে মুক্তিকামী মানুষ চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেয়। পরবর্তীতে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয় স্বাধীনতা এবং বিশ্ব মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা পায় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
ঐতিহাসিক এ ভাষণকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে UNESCO। ২০১৭ সালে সংস্থাটি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ভাষণটি পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই ভাষণকে সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদের পঞ্চম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সালে প্রকাশিত We Shall Fight on the Beaches: The Speeches That Inspired History গ্রন্থে বিশ্বের সেরা যুদ্ধকালীন ভাষণের অন্যতম হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পায়।
২০২০ সালে সরকার ৭ মার্চকে ‘জাতীয় দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং ২০২১ সাল থেকে এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হতে থাকে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ১৬ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ দিবসটির রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সরকারি ছুটি বাতিল করে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দলীয় বা নিজস্ব উদ্যোগে দিনটি পালন করে আসছে। এবছর রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হবে কিনা সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।




















