প্রতিনিধি ২৯ আগস্ট ২০২৬ , ২:৫২:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ
মুক্তিযুদ্ধসহ জুলাই আন্দোলনে শহীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে যত সীমাবদ্ধতা থাকুক না কেন বিএনপি সরকার সবসময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।
আজ শনিবার দুপুরে গুম-খুন এবং জুলাই আন্দোলনে পরিবারের চাকরি প্রদান উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোচ্চ দিয়ে আমরা চেষ্টা করব যে আকাঙ্ক্ষা ১৯৭১ সালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা করেছিলেন, যে আকাঙ্ক্ষা দেশ স্বাধীনের পর থেকে বিভিন্ন সময় গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে বিভিন্নভাবে যারা হারিয়ে গিয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন এবং সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে যে মানুষকগুলো শহীদ হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিভিন্নভাবে… তাদের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল এই সরকার বদ্ধপরিকর সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে হয়ত কেউ কেউ বলতে পারে যে সরকার এই নির্যাতিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি কথাটা একটু ঘুরিয়ে অন্যভাবে বলতে চাই। আমি বলতে চাই এই মানুষগুলো বা এই পরিবারগুলোর সহযোগিতা বা সমর্থন আছে বলেই সরকার পূর্ণ উদ্যোগে সেই শহীদ বা সেই আত্মত্যাগকারী যে মানুষগুলো তাদের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করার জন্য উৎসাহ- উদ্দীপনা নিয়ে সরকার কাজ করছেন। কাজেই আপনারাই হচ্ছেন আমাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং শক্তির উৎস।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আশা করব যতদিন পর্যন্ত এদেশের মানুষ আমাদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রাখবে, আমরা ততদিন পর্যন্ত এই পরিবারগুলোর সমর্থন বা আশা-প্রত্যাশা পূরণ করব।’
তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের করবী হলে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের চাকরি প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে ৭৪ জন সদস্যকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।
এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী গুম-খুন এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের ১০জন সদস্যের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর যাদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং খোঁজ-খবর নেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নিজেদের দলের মধ্যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভিন্ন অরাজনৈতিক ব্যক্তি বা পরিবার আছে যাদের অবদান বা আত্মত্যাগ আছে এই দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য। সরকারের চেষ্টা থাকবে যত সীমাবদ্ধতা থাকুক না কেন তার মধ্যে চেষ্টা থাকবে এই মানুষগুলোর পাশে থাকার জন্য, এই পরিবার পাশে থাকার জন্য।’
‘আমি আপনাদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি হয়ত কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তারপরেও এতটুকু বলব আমাদের অবস্থান থেকে আমরা আপনাদের সাথে ছিলাম, আছি ইনশাল্লাহ থাকব’, বলেন তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরাও চাই আপনারাও আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন, আমাদের উৎসাহ দেবেন যাতে আমরা শহীদসহ সকল আত্মত্যাগকারী গণতন্ত্রকামী যোদ্ধা যারা আছেন, তাদের যে প্রত্যাশা দেশকে নিয়ে, জাতিকে নিয়ে, সেই প্রত্যাশা পূরণ যদি আমরা কাজ করতে পারি সেই সমর্থন প্রত্যাশা করছি।’
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য কিছুটা কষ্ট বয়ে নিয়ে আসে বৈইকি। কারণ আমরা এই অনুষ্ঠানে এমন কতগুলো মানুষকে স্মরণ করছি যে মানুষগুলো হয়ত আজকে এখানে থাকার কথা ছিল, কিন্তু আমাদের মাঝে নেই। এই যে মানুষগুলো আজকে আমাদের মাঝে নেই তাদের অনুপস্থিতির যে কারণ সেই কারণের ভেতর দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ একটি ফ্যাসিস্ট অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।’
‘সেজন্যই আমাদের প্রথম কাজটি হবে সেই মানুষগুলো যারা আজকে আমাদের মাঝে অনুপস্থিত ….কোথায় কি অবস্থায় আছে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত হবে দু‘হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করা যে সেই মানুষগুলোকে যাতে আল্লাহ যে অবস্থাতে আছে সে অবস্থাতে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় আল্লাহ যাতে তাদেরকে রাখেন’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া জুলাই অভ্যুত্থান ও গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ইশফাক আহমেদ, শাম্মী সুলতানা, আলাল আহমেদ, শহীদ আনভীর বাবা মমতাজ হোসেন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, জুলাই যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ বক্তব্য রাখেন। তারা নিয়োগপত্র প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং গুম-খুনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারি প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।









