আন্তর্জাতিক

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র

  প্রতিনিধি ২২ আগস্ট ২০২৬ , ২:১৯:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে টানা তিন দিন বাণিজ্য আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর পরই কানাডা থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আজ শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দুই দেশের কর্মকর্তারা জানান, আলোচনার মাধ্যমে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি।

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ভালো বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে কানাডা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল। তবে কানাডীয় নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

কার্নি আরও জানান, বাণিজ্য বিরোধের কারণে কানাডার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের ওপর যে চাপ তৈরি হতে পারে, তা মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অন্যদিকে, আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য কানাডাকেই দায়ী করেছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার। তার অভিযোগ, আগে যেসব শর্তে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে কানাডা পিছিয়ে যায়। পাশাপাশি নতুন কিছু দাবি তোলায় এতদিনের আলোচনায় তৈরি হওয়া ভারসাম্যও নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা কানাডার মোট পণ্যের প্রায় ৫ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি ও দুগ্ধজাত সামগ্রী। এর বাইরে কানাডার ইস্পাত, কাঠ ও গাড়ির ওপর আগে থেকেই আলাদা মার্কিন শুল্ক কার্যকর রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদ শুরুর পর থেকেই কানাডার পণ্যের ওপর একাধিক দফায় শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে কানাডাও। গত জুলাইয়ে মার্কিন পণ্যের সঙ্গে কানাডার বৈষম্যমূলক বাণিজ্যনীতি রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে নতুন শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ৫০ শতাংশের এই উচ্চ শুল্ক কানাডার শত শত পণ্যের জন্য মার্কিন বাজারে প্রবেশের পথ কঠিন করে তুলতে পারে। এতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য সম্পর্কেও নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content