আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসন ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল মার্কিন আদালতে

  প্রতিনিধি ২২ আগস্ট ২০২৬ , ১২:০০:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নেওয়া ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রদান স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।

শুক্রবার নিউইয়র্কের সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনেট ভার্গাস রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা স্থগিতের নীতিটি আইনসম্মত নয়। তার মতে, এই নীতি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই আইনে কনসুলার কর্মকর্তাদের ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

রায়ে বিচারক আরও বলেন, কোনো দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে অভিবাসন ভিসা বন্ধ করে দেওয়া বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে দুটি অধিকারকর্মী সংগঠন ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার। মামলায় ভিসা আবেদনকারীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তাদের নাগরিক স্বজনরাও যুক্ত ছিলেন। বিচারক ভার্গাসকে সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিয়োগ দিয়েছিলেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতির আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, আলবেনিয়া ও বসনিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ৭৫টি দেশের নাগরিকরা প্রভাবিত হন। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকও এর আওতায় ছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের যুক্তি ছিল, এসব দেশের কিছু নাগরিক ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। সেই আশঙ্কার ভিত্তিতেই অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল।

ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিভিন্ন দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধও সেই নীতির অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো শুরু থেকেই এই নীতির সমালোচনা করে আসছিল। তাদের দাবি, জাতীয়তার ভিত্তিতে এভাবে ভিসা স্থগিত করা আবেদনকারীদের আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। তবে আদালতের রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

আরও খবর

Sponsered content