সারাদেশ

কুড়িগ্রামে গণভোট উপলক্ষে জেলা ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত

  ভুবন কুমার শীল, কুড়িগ্রাম ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৬:২৩:২২ প্রিন্ট সংস্করণ


গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে জেলা ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুড়িগ্রামের আয়োজনে রোববার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে পৌর টাউন হলে জেলার নয়টি উপজেলা থেকে আগত প্রায় সহস্রাধিক ইমাম, পেশ ইমাম ও খতিবদের নিয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক রনির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অন্নপূর্ণা দেবনাথ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি পিপিএম, কুড়িগ্রাম ২২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক পিএসসি, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. ইনজামামুল আলম এবং আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট এস. এম. সাখাওয়াৎ হোসাইন।
এ ছাড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, জেলা তথ্য অফিসার শাহজাহান আলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “গণভোট একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জনগণের মতামত সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত হয়। এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করে।”

তিনি আরও বলেন, “কুড়িগ্রামের প্রতিটি নাগরিক যেন নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

নারী ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “গণভোটে অংশগ্রহণ মানে শুধু একটি ভোট দেওয়া নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নেওয়া। তরুণ প্রজন্ম, নারী ভোটার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। কুড়িগ্রামের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী ভোটার। তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে আরও জোরালো প্রচার-প্রচারণা দরকার।”

ইমাম ও খতিবদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “সমাজে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমাম ও খতিবগণ মানুষের কাছে নৈতিকতার বার্তা পৌঁছে দেন। আপনাদের মাধ্যমে আমরা গণভোটের গুরুত্ব, সঠিক তথ্য ও দায়িত্ববোধ ছড়িয়ে দিতে চাই। আপনারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করলে ভোটার উপস্থিতি যেমন বাড়বে, তেমনি একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।”

সম্মেলনে বক্তারা গণভোটকে সফল করতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা, ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সম্মেলন শেষে অংশগ্রহণকারী ইমাম ও খতিবগণ নিজ নিজ এলাকায় গণভোট বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আরও খবর

Sponsered content