লাইফস্টাইল

জাতীয় ঐক্যের মহোৎসবে মালয়েশিয়ার স্বাধীনতার ৬৮ বছর উদযাপন

  সানজিদ খান , কুয়ালালামপুর ৩১ আগস্ট ২০২৫ , ১২:৩৩:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ

লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস আর দেশাত্মবোধের আবহে মালয়েশিয়া উদযাপন করেছে স্বাধীনতার ৬৮তম বার্ষিকী। রাজধানী পুত্রজায়ার দাতারান প্রাঙ্গণে আয়োজিত মহা-অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ‌‘মালয়েশিয়া মাদানি’–র চেতনা দৃপ্তভাবে প্রতিফলিত হয়।

এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘মাদানি মালয়েশিয়া: রাকিয়াত দিসানতুনি’। ভোর থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন হয়ে ওঠে।

উৎসব শুরু হয় স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টায়। সমাপ্তি ঘটে সুলতান ইব্রাহিম ও রাজা জারিথ সোফিয়ার আগমনের মাধ্যমে। বিশেষ মুহূর্তে রাজা নিজে নীল রঙের প্রোটন স্যাট্রিয়া নিও গাড়ি চালিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান—যা জনতার উচ্ছ্বাসকে চূড়ান্তে পৌঁছে দেয়।
এরপর জাতীয় সংগীত নেগারাকু পরিবেশিত হয় এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। রয়্যাল আর্টিলারি রেজিমেন্টের নেতৃত্বে ১৪ দফা তোপধ্বনিতে প্রতীকীভাবে উঠে আসে মালয়েশিয়ার ১৪টি রাজ্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম, উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ হামিদি, ফাদিল্লাহ ইউসুফসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। বিদেশি কূটনীতিক ও অতিথিদের উপস্থিতি উৎসবকে আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করে।

পেরাকের তেলুক বাতিকে নৌকাডুবিতে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোহাম্মদ ফিরদৌস আরবাইন রুকুন নেগারার শপথ পাঠের নেতৃত্ব দেন। তার এই ভূমিকা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল খ্যাতনামা শিল্পী সিটি নুরহালিজার পরিবেশনা। স্বাধীনতা ও মালয়েশিয়া দিবস উপলক্ষে নতুন অফিসিয়াল থিম সং গেয়ে তিনি দর্শক-শ্রোতাদের আবেগে ভাসান। হাজারো মানুষ একসঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গানের সুরে গড়ে ওঠে ঐক্যের অনন্য বার্তা।

চূড়ান্ত আকর্ষণ ছিল বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। এতে অংশ নেয়—

  • ২১টি মার্চিং ব্যান্ড

  • ৭টি ভাসমান ফ্লোট

  • ৫০৮টি স্থল ও আকাশযান

  • ১১৬টি জনসেবামূলক প্রাণী

  • ১৪,০৬২ জন অংশগ্রহণকারী

প্যারেডটি ছয়টি ভাগে বিভক্ত ছিল: জাতীয়তা, জনগণের শোভাযাত্রা, মঙ্গল, জাতীয় নিরাপত্তা, বিমান প্রদর্শনী এবং বিশেষ মাদানি পরিবেশনা। সেলাঙ্গর ও ফেডারেল টেরিটরির ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই হাজার শিক্ষার্থীর মানব-গ্রাফিক ও কণ্ঠসংগীত পুরো পরিবেশকে আরও বর্ণময় করে তোলে।

কুয়ালালামপুর থেকে আসা নুরহানিজাহ বলেন, “আজকের এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভিন্ন ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি সত্ত্বেও আমরা সবাই এক মালয়েশিয়ান।”
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাজিফ জানান, “সিটি নুরহালিজার গানটির সময় পুরো ভিড় এক হয়ে গেয়েছিল—এটাই আমাদের ঐক্যের প্রকৃত শক্তি।”

১৯৫৭ সালের ৩১ আগস্ট ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে মালয়েশিয়া। শান্তিপূর্ণ উপায়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটি শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

আরও খবর

Sponsered content