সারাদেশ

ঝিনাইদহে মনিরুল মেম্বারের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও লুটপাটের অভিযোগ

  ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১:০৫:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ

একাধিক মামলার আসামি ও পলাতক ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে পরিচিত মনিরুল মেম্বারের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলা কানাই ইউনিয়নের কোরাপাড়া গ্রামের বেকাব্রীজ এলাকার আব্দুল শাহের ছেলে।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন একই এলাকার বাসিন্দা আজিবর রহমানের ছেলে রাশিদুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, চিহ্নিত সন্ত্রাসী মনিরুল গত ১৭ বছর ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ, নারী নির্যাতন ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত।

রাশিদুল ইসলাম জানান, বেকাব্রীজ সংলগ্ন তার পৈত্রিক সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত দুইতলা বাড়িসহ প্রায় পাঁচ শতক বসতভিটা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে মনিরুল ও তার সহযোগীরা। তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্ট জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ ও জেলা বিএনপির কার্যালয় পোড়ানোর মামলার ৬৯ নম্বর আসামি মনিরুল। তার রয়েছে নিজস্ব অস্ত্রধারী একটি বাহিনী, যা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মনিরুল একজন ভূমিদস্যু হিসেবে আইন-আদালত, পুলিশ ও প্রশাসন কাউকেই তোয়াক্কা করে না। অস্ত্রের জোরে মানুষের সম্পদ লুটের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানা, সেনাবাহিনী ক্যাম্প, র‍্যাব ক্যাম্পসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বিচার পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঝিনাইদহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আদালতের সিআর নং-৩৮/২৫ (আদেশ নং-১, তারিখ ৩১/০৮/২০২৫) মামলায় মনিরুল, তহমিনা ও মিশন নামের তিনজনের বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করেছে (স্মারক নং-৬৩৮৫, তারিখ ০৪/১০/২০২৫)। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ত্রাস সৃষ্টিকারী, চাঁদাবাজ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী দলের সদস্য। তারা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজি ও নিরীহ মানুষের জমিজমা জোরপূর্বক দখল করে আসছে। রাশিদুলের দুটি দোকান দখলসহ ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং পরবর্তীতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তার বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয় বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

রাশিদুল ইসলাম আরও জানান, অস্ত্রধারী মনিরুলের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকসহ ঝিনাইদহ থানায় ০৩/০৮/২০২৪, ১৭/০৮/২০২৪, ০৯/১২/২০২৪, ২৮/১২/২০২৪ ও ১৮/০৯/২০২৫ তারিখে মোট ১০টি এবং সেনাবাহিনী ক্যাম্পে চারবার লিখিত অভিযোগ করা হয়। প্রতিবার অভিযোগ প্রমাণিত হলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে মনিরুল আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে মনিরুল মেম্বার বলেন, তিনি সব মামলায় জামিনে রয়েছেন এবং কোনো সম্পত্তি দখল করেননি। বিস্তারিত জানতে বিকাল পাঁচটার পর দেখা করতে বলেন তিনি।

মনিরুলের এক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা অত্যন্ত বেপরোয়া এবং আইন-আদালত মানতে চায় না। জোরপূর্বক দখল ও লুটপাট তাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। স্থানীয় হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

অপর এক প্রতিবেশী অভিযোগ করে বলেন, রাশিদুলকে নির্মমভাবে বিতাড়িত করে সব মালামাল লুট করে নেওয়া হয়েছে। তাকেও দোকান থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ একাধিকবার দখল বুঝিয়ে দিলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। তিনি মূলত আওয়ামী লীগের রশিদ চেয়ারম্যানের অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ থানা পুলিশ জানায়, মামলাটি পুরনো হলেও আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে মনিরুল ও তার বাহিনীকে গ্রেপ্তার করা না হলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হতে পারে।

আরও খবর

Sponsered content