মো. নুরুজ্জামান শেখ , গাজীপুর প্রতিনিধি ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১:৪১:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন এলাকায় মাস্কো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনসেপ্ট পোশাক কারখানায় ফের শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে কাজে যোগদানের পর হঠাৎ করে একাধিক শ্রমিক মাথা ঘোরা, বমি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের বরাতে জানা যায়, সকালে নিয়মিত কাজ শুরুর কিছু সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের মধ্যে অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দেয়। একের পর এক শ্রমিক মাথা ঘোরা ও বমি করতে থাকলে কারখানার কাজের ফ্লোরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত টঙ্গীর ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অধিকাংশ শ্রমিক বমি, মাথা ঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হয় এবং চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফিরে যান।
এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইকবাল চৌধুরী বলেন,
“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার ভেতরে কোথাও গ্যাস লিকেজ বা তীব্র গন্ধের কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন। এ ধরনের ঘটনায় মাথা ঘোরা ও বমির উপসর্গ দেখা দেয়। তবে বিস্তারিত পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।”
ঘটনার বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন খান বলেন,
“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কী কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়েছেন এবং কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এডমিন ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“এটি গুজব থেকে সৃষ্ট একটি পরিস্থিতি। আমরা সব সময় শ্রমিকদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সহযোগিতা করে আসছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যার কারণে শ্রমিকরা আন্দোলনে জড়াবে। আমাদের চেয়ারম্যান, এমডি ও কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের পাশে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, কারখানায় বেতন বা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কখনো কোনো অসন্তোষ দেখা যায়নি। তবে শ্রমিকদের মধ্যে হঠাৎ এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর একই কারখানায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রায় শতাধিক শ্রমিক। সে সময়ও বহু শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি বিবেচনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করেছে। শ্রমিক ও স্থানীয়দের দাবি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।




















