প্রচ্ছদ

দীর্ঘদিনেও নিরসন হচ্ছেনা সারিয়াকান্দি-ইসলামপুর সীমান্ত জটিলতা

  প্রতিনিধি ৬ মার্চ ২০২৫ , ৭:৪৫:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নে ৫০০ একর জমি নিয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের সীমানা জটিলতা। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনে সমাধান মিলছে না। সারিয়াকান্দির কৃষকের ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কতিপয় দুষ্কৃতকারী। এছাড়াও দুষ্কৃতকারীদের বাৎসরিক চাঁদা দিয়ে বসবাস করছে দেড় শতাধিক পরিবার। গত বছরের মতো ফসল কর্তন নিয়ে এ বছরও সংঘাতের আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকাবাসী। প্রশাসন বলছে এ বিষয়ে উপর মহলে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এমন জটিলতায় ৩৩৩ জন গ্রামবাসীর স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের মানিকদাইড় মৌজার সাথে জামালপুর জেলার ইসলামপুর এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার ৫০০ একর জমির একটি সীমানা বিরোধ চলমান রয়েছে। গত বছর সারিয়াকান্দির কৃষকদের ফলানো ফসল কেটে নিয়ে গেছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কোয়ালিকান্দি গ্রামের আব্দুল হক ফকিরের ছেলে তৌফিকুল ইসলাম এবং কাটমা গ্রামের মৃত মনছের কামারের ছেলে ছাইরুদ্দি কামারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াই শতাধিক দুষ্কৃতকারী। এ বছরও তারা সারিয়াকান্দির কৃষকদের ফলানো ফসল জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া এ বিরোধপূর্ণ অংশে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের বসবাস রয়েছে। এসব পরিবারের নিকট থেকে প্রতিবছর ইসলামপুর উপজেলার নামধারী দুষ্কৃতকারী জোরপূর্বক পরিবার প্রতি ৭ থেকে ১২ হাজার করে টাকা চাঁদা উত্তোলন করছেন। এমতাবস্থায় এলাকায় একটি সংঘাত পূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানে যেকোনও সময় বড় আকারের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এ সম্পর্কিত অভিযোগ বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর প্রদান করা হয়েছে এবং এর অনুলিপি ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার, সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সারিয়াকান্দি থানা বরাবর প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগের প্রধান বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান বলেন, গত বছর ইসলামপুরের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত হয়ে আমাদের ফসলগুলো জোরপূর্বক কেটে নিয়ে গেছে। আমাদের লোকজনের কাছে থেকে তারা জোরপূর্বক চাঁদা উত্তোলন করছে। চাঁদা না দিলে তারা ঘরবাড়ি ভেঙে দেয়ার হুমকিও দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট চালুয়াবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বাদশা বলেন, সীমানা জটিলতায় আমি গত কয়েক বছর ধরেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য কাজ করছি। কিন্তু নানা কারণে এটি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে ইসলামপুর এবং সারিয়াকান্দির ইউএনও একত্রে বসলেই বিষয়টির সমাধান হবে।
ইসলামপুর উপজেলার সংশ্লিষ্ট নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রোমান হাসান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে এটি নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে ঘটনাস্থলে বসে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেইসাথে বিরোধপূর্ণ অংশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার রহমান বলেন, এ সম্পর্কিত তদন্ত প্রতিবেদন বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। নালিশী সম্পত্তিগুলো ১ নং খতিয়ানে নদী ও বালুচর শ্রেণিতে সারিয়াকান্দির মানিকদাইড় মৌজায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসকের নামে উল্লেখ রয়েছে এবং জমিগুলো পয়স্তি থাকায় বাদী পক্ষকে লীজ দেয়া হয়েছে। তখন থেকে বাদী পক্ষ নালিশী জমি চাষাবাদ করে আসছেন। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content