সারাদেশ

নওগাঁ-৪ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ চরমে, বিএনপি–জামায়াতের লড়াই ঘিরে ভোটারদের কৌতূহল

  মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি : ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৮:৩৩:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ


নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে নির্বাচনের উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর প্রধান প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং, পোস্টার ও গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন পর এই আসনে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। মান্দার এক মধ্যবয়সী ভোটার বলেন, “এবার বোঝা যাবে কে সত্যিকার অর্থে মানুষের সেবা আর উন্নয়নের কথা ভাবছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, শেষ মুহূর্তের হিসাবই বড় ভূমিকা রাখবে।”

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপু প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তিনি মান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত ঐক্যজোট প্রার্থী খন্দকার মুহা. আব্দুর রাকিবও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংক ও সংগঠনের শক্ত কাঠামোর ওপর ভর করে তারা আশাবাদী। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এ আসনে এবার জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ (সিপিবি) এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রার্থী মূলত নির্দিষ্ট এলাকায় ভোট ভাগাভাগি করে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যবধান কমাতে প্রভাব ফেলতে পারেন।

প্রার্থী ও প্রতীক

  • ডা. ইকরামুল বারী টিপু (বিএনপি) — ধানের শীষ

  • খন্দকার মুহা. আব্দুর রাকিব (জামায়াত) — দাঁড়িপাল্লা

  • আলতাফ হোসেন (জাতীয় পার্টি) — লাঙ্গল

  • সোহরাব হোসাইন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা

  • ডা. এস এম ফজলুর রহমান (সিপিবি) — কাস্তে

  • আরফানা বেগম ফেন্সি (স্বতন্ত্র) — কলস

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৪ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১২ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, “নির্বাচনী মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই।”

প্রার্থীরা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে প্রচারণা চালালেও বিএনপি ও জামায়াতসহ কয়েকটি দল সমান সুযোগ নিশ্চিতের দাবি অব্যাহত রেখেছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটার উপস্থিতি, নিরপেক্ষ ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবং ছোট দলগুলোর ভোট ভাগাভাগির প্রভাবই শেষ পর্যন্ত নওগাঁ-৪ আসনের ফল নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আরও খবর

Sponsered content