ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ৩১ জুলাই ২০২৫ , ১১:৩০:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজ নিখোঁজ মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে ঝিনাইদহে এক পিতা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ৩০ জুন ২০২৫, বুধবার দুপুর ১২টায় পাগলা কানাই মোড়ে ঝিনাইদহ প্রেস ইউনিটি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল আজিজ লিখিত বক্তব্যে জানান, সাত বছর আগে তিনি তার দ্বিতীয় কন্যা জোবাইদার বিয়ে দেন ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার এক গ্রামে। একটি সন্তানসহ সুখের সংসার চললেও, পরবর্তীতে তার মেয়ের জীবনে ছায়ার মতো নেমে আসে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মৃত মল্লিক মন্ডলের ছেলে আসাদুলের কু-দৃষ্টি।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল আজিজ অভিযোগ করেন, আসাদুল প্রতারণার মাধ্যমে জোবাইদার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং হুমকি দিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে দূরে রাখে। পরে চক্রান্ত করে মেয়েকে উথলী গ্রামের শাহীন ড্রাইভারের কাছে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে জীবননগরের মেদিনীপুর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী হাকিমের হাতে তুলে দেয়।
হাকিমের প্রভাবে মেয়েকে মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার করা হয় এবং এক পর্যায়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জোবাইদা। পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন করিয়ে মেয়েকে বাড়ি আনা হলেও আসাদুলের প্ররোচনায় সে পুনরায় নিখোঁজ হয়ে যায়।
আব্দুল আজিজ জানান, আনন্দবাজার সীমান্ত এলাকায় মেয়েকে পাচারের সময় রাসেল নামে ঢাকার এক পরিবহন সুপারভাইজার তাকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। কিন্তু এর পর থেকে তার মেয়েকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, জোবাইদার পাঁচ বছরের শিশু সন্তান রয়েছে, সে এখন মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত। এসময় তিনি মেয়েকে ফেরত পাওয়ার আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমার সহজসরল মেয়েকে ফিরিয়ে দিন, এবং আসাদুল, শাহীন, হাকিমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিন।”
তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা (নং: পিটিশন ৫৪/২০২৫) দায়ের করা হয়েছে এবং আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেস ইউনিটির সভাপতি সাংবাদিক সাহিদুল এনাম পল্লব, সাধারণ সম্পাদক বিএম আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক সবুজ মিয়া, বাবলু মিয়া, তাপস কুণ্ডু, মিশুক হাসান, এস কে কাদের, রাকিব হোসেন, লতা মিয়া ও আরও অনেকে।
এসময় তারা সকলেই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জোবাইদাকে উদ্ধারের জোর দাবি জানান।





















