জাহিদ হাসান চৌধুরী, ফেনী জেলা প্রতিনিধি ৪ আগস্ট ২০২৫ , ১১:২৫:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফেনীর মহিপালে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যার এক বছর পূর্ণ হলো আজ (৪ আগস্ট)। ২০২৪ সালের এই দিনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে ‘এক দফা’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে মহাসড়কে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়, যা পরিণত হয় এক ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞে।
দুপুর দেড়টার দিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মুহুর্মুহু গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান শ্রাবণ, মাসুদ, শিহাব, সাইদুল, সাকিবসহ অন্তত ৮ জন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৩ জন মারা যান। আহত হন দেড় শতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শ্রমজীবী ও পথচারীরা।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আসিফ ইকবাল বলেন, “৪ আগস্ট দুপুর আড়াইটার পর থেকেই ইমার্জেন্সিতে শুধু রক্ত আর রক্ত। কেউ নিয়ে আসছে মরদেহ, কেউ গুরুতর আহত। এত মরদেহ একসঙ্গে জীবনে কখনো দেখিনি।”
শহীদ শ্রাবণের পিতা নেছার আহম্মদ বলেন, “অনেক আসামি বিদেশে পালিয়ে গেছে, বাকিরা রয়ে গেছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। বিচার না হলে আমার সন্তানের আত্মত্যাগ ব্যর্থ হবে।”
শ্রাবণের মা ফাতেমা আক্তার শিউলি বলেন, “সেদিনের পর থেকে আমাদের ঘরটা আর ঘর নেই। এখন শুধু চাই—ন্যায়বিচার।”ফেনীর পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, “মোট ২২টি মামলা হয়েছে—এর মধ্যে ৭টি হত্যা ও ১৫টি হত্যাচেষ্টা মামলা। আসামির সংখ্যা ৬১৯৯ জন, যাদের মধ্যে ২১৯৯ জন এজাহারনামীয় এবং ৪০০০ জন অজ্ঞাত। ইতোমধ্যে ১০০০+ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১১ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।”
একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীসহ ২২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালের শহীদদের স্মরণে মুক্ত বাজার এলাকায় ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সদর হাসপাতাল চৌরাস্তার পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ‘জুলাই ২৪ শহীদ চত্বর’।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মুহাইমিন তাজিম বলেন, “এই গণহত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে সামনে আরেকটি ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে। মৌলিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।”





















