প্রচ্ছদ

বগুড়ার সীমান্ত ঘেঁষে চলছে ১৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজ

  স্টাফ রিপোর্টারঃ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ৬:১৬:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ

0-4608x3466-0-0#

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার সীমানা ঘেঁষে ১৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। কাজ সম্পন্ন হলে এটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় সৌর শক্তিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। ১৩১.৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পের মাটির কাজ ইতিমধ্যেই সমাপ্তের পথে। এছাড়া শতকরা ৫২ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। ১১৫ মেগাওয়াট এসি এবং ১৪০ মেগাওয়াট ডিসি বিদ্যুৎ উৎপাদন এ বছরের মধ্যেই চালু হওয়ার সম্ভাবনা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বহুমূখীকরণের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের উত্তর শংকরপুর গ্রামের সীমানার সাথে জামালপুর মাদারগঞ্জ কাইজার চরে নির্মিত এ প্রকল্পের নামকরণ করা হয়েছে “মাদারগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্লান্ট।” পরে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে ১৪০ মেগাওয়াট এ উন্নীত করা হয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, ৩২৫.৬৫৩৬ একর জমিতে ইতিমধ্যেই মাটি ভরাট কাজ প্রায় সমাপ্ত করা হয়েছে। এখন শুধুমাত্র পুরো প্রকল্পের চারপাশের মেইন্টেনেন্সের কাজ চলমান রয়েছে। বড় বড় আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চলছে মাটি সমান করনের কাজ। অল্পই কয়েকদিনের মধ্যেই সোলার প্যানেল বসানোর কাজ শুরু করা হবে। তখন এটি এ অঞ্চলের একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হবে।

জানা গেছে, গত ১৩ জুন জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে চিনের ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি কোম্পানি (সিআরইসি) এবং বাংলাদেশ সরকারের বিআর পাওয়ারজেন লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে এই যৌথ প্রকল্পের চুক্তি সই হয়। সিআইআরই, চায়না এবং বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেডের মধ্যে জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির শেয়ার সিআইআরইয়ের ৭০ শতাংশ ও বি-আর পাওয়ারজেন-এর ৩০ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আসবে কোম্পানিটি। প্রকল্পে পুনর্বাসন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মসজিদ, মার্কেট, পুকুর ও কবরস্থানসহ ২৪১ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩১.৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বি-আর পাওয়ারজেন-এর পক্ষে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ধূর্জটী প্রসাদ সেন এবং সিআইআরই’র পক্ষে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝিউসেন ওয়াং চুক্তিতে সই করেন।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- মাদারগঞ্জ ১০০ মে.ওয়াট, যা উন্নীত ১৪০ মে.ওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট এবং কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) কাজ সম্পাদন, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৩২৫.৬৫৩৬ একর ভূমি উন্নয়ন, ১৩২ কেভি ৪৭ কিমি. পাওয়ার ইভাক্যুয়েশন লাইন এবং ইভাক্যুয়েশন অবকাঠামো নির্মাণ, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অফিস বিল্ডিং, ওয়ার্কশপ, ওয়্যারহাউজ এবং আনসার ব্যারাক নির্মাণ, ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং ৩২৫.৬৫৩৬ একর ভূমি দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্ত গ্রহণ।

প্রকল্প পরিচালক ফেরদৌস রহমান বলেন, ২০১৭ সাল থেকে দেশে এ পর্যন্ত সাতটি সোলার পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১৩০ মেগাওয়াট। পার্কগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে। যার মোট উৎপাদনক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু জামালপুর পাওয়ার প্লান্টের একাই উৎপাদনক্ষমতা হবে ১৪০ মেগাওয়াট। তাই এটি দেশের সর্ববৃহৎ সৌরশক্তিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে চলেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বহুমূখীকরণের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমবে।

এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলেও জানা গেছে।

মোঃ রাশেদ মিয়া /এমআই

আরও খবর

Sponsered content