সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১:৪৪:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দরগাহপুর এনডিএস ফাজিল মাদ্রাসায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শতাধিক বিঘা কৃষিজমি থেকে বছরে আদায়কৃত প্রায় অর্ধকোটি টাকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালে ডা. রাহাতুল্লাহ গাজী মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০০ বিঘা কৃষিজমি মৎস্যঘের হিসেবে ইজারা দিয়ে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয় করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই আয়ের অল্প অংশই প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস হোসেন ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আয়ের বড় অংশ আত্মসাৎ করছেন। বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে হিসাব সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি তদন্ত এলে তা প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য আলহাজ মুরাদ হোসেন বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি এখন লুটপাটের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বহুবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও সমাধান পাইনি।”
পরিচালনা পর্ষদের আরেক সদস্য আবুল হোসেনের অভিযোগ, ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে অভিভাবক সদস্য অন্তর্ভুক্তসহ পর্ষদ গঠনে অনিয়ম হয়েছে।
মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফ জানান, ছাত্রাবাস ও কবরস্থান নির্মাণের জন্য জমি দেওয়া হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। এ বিষয়ে আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
তিনি আরও বলেন, অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে প্রায় ১০ মাস আগে পরিচালনা পর্ষদের ছয় সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এরপরও এককভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস হোসেন বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেও একইভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
এদিকে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।




















