নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ১২ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:১০:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা, কারাবরণ ও পুলিশি নির্যাতনের মধ্যেও রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার দাবি উঠেছে তাঁদের ঘিরে। দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে ব্যক্তিস্বার্থ ও অনৈতিক সুবিধা থেকে দূরে থাকার কথা বলছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাঁদের ভাষ্য, নীরব ও প্রচারবিমুখ হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাননি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বনানী থানা এলাকার চার কর্মী সহিদুল আলম হিরু, মিজানুর রহমান বাঘমার, নাফি আহমেদ ও হাসান আল মামুন অপু।
স্থানীয় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, বর্তমান রাজনীতিতে পদ-পদবি ও ব্যক্তিস্বার্থের প্রতিযোগিতার মধ্যে এই চার কর্মী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ নেই বলেও দাবি তাঁদের।
তৃণমূলের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহিদুল আলম হিরু ও নাফি আহমেদ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের দাবি, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে একের পর এক মামলা ও কারাবরণের মুখেও তাঁরা রাজপথের আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফার্মগেট মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মো. গোলাম নাফিজ। তিনি বনানী থানা বিএনপির কর্মী নাফি আহমেদের আপন ভাতিজা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আন্দোলনে বিএনপি ও শহীদ পরিবারের আত্মত্যাগের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে নাফি আহমেদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সহিদুল আলম হিরু ও নাফি আহমেদের পাশাপাশি মিজানুর রহমান বাঘমার এবং হাসান আল মামুন অপুও রাজপথের আন্দোলন ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তাঁদের ভাষ্য, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা ও ভোটার স্লিপ বিতরণসহ বিভিন্ন কাজে তাঁরা অংশ নেন।
রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারণে গত ১৬ বছরে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিবার-পরিজন ও সম্পত্তি হুমকির মুখে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
গুলশান থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এক আলোচনা সভায় তাঁদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “উনারা চাইলে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবার নিয়ে সুখে থাকতে পারতেন। কিন্তু শহীদ জিয়ার আদর্শ ও বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথ আঁকড়ে ধরে রাজনীতিকে ভালোবাসার এক অদ্ভুত নেশায় নিজেদের সঁপে দিয়েছেন। তারা দল থেকে কখনো কিছু চাননি, শুধুই দিয়ে গেছেন। কিন্তু আত্মসম্মানবোধের কারণে মুখ ফুটে নিজের প্রাপ্তির কথা না বলায় আজ তারা অবহেলিত।”
বনানী থানা বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের দাবি, রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও নতুন ধারার রাজনীতির কথা বলার এই সময়ে দীর্ঘদিনের তৃণমূল কর্মীদের অবদান বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। তাঁদের মতে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন বাস্তবায়নেও এই কর্মীরা ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রবীণ ও নবীন কর্মীদের একাংশের দাবি, দলীয় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হোক।















