নওগাঁ প্রতিনিধি: ৮ নভেম্বর ২০২৫ , ৯:৫৬:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
সরকারি চাকরি মানেই শুধু ফাইলের গন্ধ, অফিসের চেয়ার-টেবিল আর নিয়মকানুন— এমন ধারণা এখনও অনেকের মধ্যে প্রচলিত। কিন্তু নওগাঁর পোরশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিব ইসলাম প্রমাণ করছেন, সরকারি দায়িত্ব পালন করেও মানুষের পাশে থেকে প্রকৃত সেবা ও মানবিকতার আনন্দ পাওয়া সম্ভব।
সম্প্রতি উপজেলার মশিদপুর প্রাইমারি ও হাই স্কুলের যৌথ এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন ইউএনও রাকিব ইসলাম। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সামনে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় আশপাশের এলাকায় সরকারি ঢেউটিনের আবেদনকারীদের বাড়ি সরেজমিন পরিদর্শনে যান ইউএনও। এসময় তিনি একটি কওমি মাদরাসার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মসজিদের এক বয়োবৃদ্ধ ইমামের কাছ থেকে জানতে পারেন, এলাকায় এক অভাবী নারী আছেন— যিনি স্বামী হারিয়ে দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
ইমামের সঙ্গে ওই বাড়িতে গিয়ে ইউএনও দেখেন, জীর্ণ টিনের ঘরে একবেলা ডালভাত খেয়ে দিন গুজরান করছে পরিবারটি। ঘরের অবস্থা দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, ঘর মেরামতের জন্য ওই পরিবারকে সরকারি ঢেউটিন দেওয়া হবে। সঙ্গে গাড়িতে থাকা শুকনো খাবারের একটি বস্তাও তুলে দেন তাদের হাতে। কিছুদূর যাওয়ার পর মনে হয়, গাড়িতে থাকা বাকি বস্তাটিও তাদের প্রাপ্য— ফিরে গিয়ে সেটিও দিয়ে আসেন তিনি।
মানবিক এই আচরণে স্থানীয়দের প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও রাকিব ইসলাম।
তিনি বলেন, “যে দেশে এখনও অনেক শিশু ডালভাত খেয়ে বড় হয়, যেখানে বহু মা-বাবা ঝড়-বৃষ্টির রাতে ছাদ টিকিয়ে রাখতে লড়াই করেন— সেখানে সরকারি সহায়তা সঠিক মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে পারাটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। এই আনন্দ কোনো প্রমোশন বা পুরস্কারেও মেলে না।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি চাকরিতে নানা হতাশা ও কটূক্তি থাকলেও যখন কোনো অভাবী পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারি, তখনই মনে হয়— আমি আমার প্রজাতির জন্য কিছু করতে পেরেছি।”
তরুণদের উদ্দেশে ইউএনও রাকিব ইসলাম বলেন, “পড়াশোনা করো ভাই। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পড়াশোনার বিকল্প নেই। একদিন এই পড়াশোনাই তোমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে এসো— মানুষের জন্য কাজ করো, মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নাও।”




















