মোঃ সাইফুল ইসলাম শরীয়তপুর প্রতিনিধি ৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:২৩:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ছুরিকাঘাতের পর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস (৫০) কে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত খুনিদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেছে বিএনপি।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে নিহত খোকন দাসের বাড়িতে খোঁজ নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এ দাবি জানান। তিনি বলেন, “এ ধরনের মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনা অত্যন্ত বিরল। যেভাবে খোকন দাসকে হত্যা করা হয়েছে, তা মানবতাবিরোধী। বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এই ঘটনার সর্বোচ্চ বিচার দাবি করছি। পাশাপাশি আমরা এই শোকাহত পরিবারের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”
এ সময় তিনি নিহত খোকন দাসের বড় ছেলে, রাশিয়া প্রবাসী আকাশ চন্দ্র দাসের সঙ্গে মোবাইলে ভিডিও কলে কথা বলেন এবং পরিবারকে সান্ত্বনা দেন।
এদিকে, খোকন দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান তিন অভিযুক্ত—সোহাগ খান, রাব্বি মোল্যা ও পলাশ সরদারকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ওষুধ ব্যবসায়ী ও মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট খোকন দাস। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলাকারীদের চিনে ফেলায় তারা তার শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। খোকন দাসের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে দগ্ধ ও গুরুতর জখম হওয়ায় অবস্থার অবনতি ঘটে। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদারকে (২৫) আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, খোকন দাস হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শরীয়তপুর শহীদ মিনারে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, শরীয়তপুর জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, “আমার ছেলেকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”














