সারাদেশ

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সহপাঠীর পরিবারের পক্ষে মামলা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার, শিক্ষার্থী হাসানুর রহমানের মুক্তি দাবি

  মোঃ গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:৪২:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ

 

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সহপাঠীর পরিবারের সঙ্গে থানায় মামলা দায়ের করতে গিয়ে উল্টো গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে পুনরায় শিক্ষা জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার রাজশাহী–নাটোর মহাসড়কের পোল্লাপুকুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম নিহত হন। আহতদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় জনতার মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পরপরই বেলপুকুর থানা, পবা হাইওয়ে থানা ও পুঠিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে থানা সীমানা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বাসচালককে আটক না করায় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনার জন্য বাসচালকের বেপরোয়া গতিকে দায়ী করে।

ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, সহপাঠীর মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রায় ৩০–৪০ মিনিট পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বডি ব্যাগে রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে শিক্ষার্থীরা তীব্র মানসিক চাপে পড়েন। এ সময় বাসচালক আটক না হওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে জনরোষ সৃষ্টি হলে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে এবং রাজশাহী–ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত রাখতে এবং সংঘাত এড়াতে চেষ্টা করেন।

রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় একটি কুচক্রী মহল সেনাবাহিনী, পুলিশ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এমনকি রাস্তায় পড়ে থাকা লাশের ওপরও ইট-পাটকেল ছোড়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহপাঠীর মরদেহ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় অ্যাম্বুল্যান্সে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। তবে ২৬ জানুয়ারি নিহত শান্ত ইসলামের পরিবারের পক্ষে ছাত্র-শিক্ষক ও স্বজনরা বেলপুকুর থানায় মামলা করতে গেলে থানার সামনে থেকে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তাদের দায়িত্ব পালনে সমর্থন জানায়। তবে ঘটনার বাস্তবতা ও মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি সংবেদনশীলভাবে মূল্যায়ন করে ন্যায়সংগত সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থী হাসানুর রহমানকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে তার শিক্ষা জীবন অব্যাহত রাখার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content