সারাদেশ

সারিয়াকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন

  মোঃ রাশেদ মিয়া , স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:২৭:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা-বাঙালি বিধৌত চরাঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

তবে হাসপাতালটিতে নিজস্ব এনেস্থিসিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় পার্শ্ববর্তী সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক এনে এ অপারেশন পরিচালনা করতে হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) কার্যত নতুন যুগে প্রবেশ করল।

উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের রাজমিস্ত্রীর সহকারী শুভ মিয়া (২৪) ও তার স্ত্রী শুভতারা (১৮)-এর ঘর আলো করে জন্ম নেয় পুত্রসন্তান ‘তাসকিন’। নিম্নআয়ের এই পরিবারে আধুনিক চিকিৎসার ব্যয়ভার ছিল বড় বাধা। বেসরকারি ক্লিনিকে যেখানে সিজারিয়ান করতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়, সেখানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশন সম্পন্ন হয়।

সন্তানকে কোলে নিয়ে আবেগাপ্লুত শুভ মিয়া বলেন, “সারাদিন রোদে পুড়ে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসারই চলে না। স্ত্রীর সিজারের কথা শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু সরকারি হাসপাতাল আমাদের সেই দুশ্চিন্তা দূর করেছে। আমি সরকার ও চিকিৎসকদের কাছে কৃতজ্ঞ।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুব হোসেন সরদারের নেতৃত্বে অপারেশনটি সম্পন্ন হয়। এতে অংশ নেন গাইনি সার্জন ডা. তাসলিমা আবিদ শাপলা, এনেস্থিসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. মনিরা আঞ্জুমান, আরএমও ডা. তানজিল আহমেদ ও ডা. মাশকুরুর মোকাররম জিম। সহযোগিতা করেন ডা. সুবির চন্দ্র মজুমদার এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আব্দুল হাই।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এতদিন এখানে কেবল স্বাভাবিক প্রসব সেবা দেওয়া হতো। এখন থেকে সিজারিয়ান সেবা নিয়মিত চালুর পরিকল্পনা থাকলেও জনবল সংকট বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নিজস্ব এনেস্থিসিয়া চিকিৎসক না থাকায় আপাতত সোনাতলা থেকে চিকিৎসক এনে সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

নদীভাঙন কবলিত এই দুর্গম চরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহলের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো উন্নয়ন হলে এটি চরাঞ্চলের মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনরক্ষাকারী কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুব হোসেন সরদার বলেন, “দুর্গম চরাঞ্চল ও দরিদ্র রোগীদের কথা বিবেচনা করেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। প্রয়োজনীয় জনবল ও স্থায়ী কাঠামো পেলে আরও উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় দরিদ্র রোগীরা বিনামূল্যে অপারেশনের সুবিধা পাবেন।”

আরও খবর

Sponsered content