মেহেরপুর প্রতিনিধি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৭:৪৬:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
হয়রানি ও ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মেহেরপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন ঘুরেও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা। ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা দিলে কাজ দ্রুত হয়, আর টাকা না দিলে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট আবেদনের সময় ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণ কিংবা সামান্য তথ্য সংশোধনের জন্যও ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে সরাসরি টাকা দাবির একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
গাংনী উপজেলার চর গোয়াল গ্রামের বাসিন্দা নুর হোসেন জানান, প্রায় ১০ দিন আগে তিনি পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। আবেদনের সময় ভুলবশত জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের নম্বর গুলিয়ে ফেলেন। পরে সংশোধনের জন্য একাধিকবার পাসপোর্ট অফিসে গেলেও তার কাজ করা হয়নি। একপর্যায়ে অফিসে দায়িত্বরত আনসার সদস্য সাকিব তার কাছে ১ হাজার ১০০ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বারবার ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীর জোরালো প্রতিবাদের মুখে কোনো টাকা না নিয়েই সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্টরা।
একই ধরনের অভিযোগ করেন মেহেরপুর সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিমেল। তিনি বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন তিনি। আবেদনে কোনো ত্রুটি না থাকলেও দিনের পর দিন তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়নি। বারবার অফিসে গিয়ে শুধু আশ্বাস পেয়েছেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হওয়ায় দ্রুত ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার অনুরোধ জানালে আনসার সদস্য সাকিব তার কাছে ১ হাজার ১০০ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে পাসপোর্ট হবে না বলে হুমকি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু এই দুটি ঘটনা নয়—প্রতিদিনই নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। যারা ঘুষ দিচ্ছেন, তাদের কাজ দ্রুত শেষ হচ্ছে। আর যারা টাকা দিতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক, তাদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনসার সদস্য সাকিব প্রথমে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সেবা প্রত্যাশীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মেহেরপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. সরবেশ আলী বলেন, “সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সেবা প্রত্যাশীরা আনসার সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে আমার কাছে এলে পুরো ঘটনার খোলাসা হয়।”
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।














