শফিউল মঞ্জুর ফরিদ (বিশেষ প্রতিনিধি) ৪ এপ্রিল ২০২৬ , ৫:২৬:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত পথে কৃষি বিপ্লব ত্বরান্বিত করতে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ফরিদপুর সফরের প্রথম ভাগে ভাঙ্গা উপজেলায় খাল পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সফরকালে তিনি কৃষি উন্নয়ন, জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং ফরিদপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সকালে ভাঙ্গা উপজেলার রশিবপুরা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। শরীফাবাদ এলাকার হ্যালোন ফকিরের বাড়ি থেকে কুমার নদ পর্যন্ত এ খনন কার্যক্রম চলবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, “জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে দেশে কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে ফরিদপুর অঞ্চলে পাট ও পেঁয়াজ চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসবে। উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকট থাকা সত্ত্বেও দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। “আগামী এপ্রিল মাসেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না”—এমন আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, সরকার ভর্তুকি দিয়ে হলেও জনগণের ওপর চাপ কমাতে বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
সফরের অন্য অংশে তিনি ‘ফরিদপুর হেরিটেজ’ নামে একটি গবেষণা ও সংরক্ষণ সংগঠনের উদ্বোধন করেন। বিকেলে শিশু একাডেমি মিলনায়তনে পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মফিজ ইমাম মিলনের লেখা ‘মৃত্যুঞ্জয়ী জসীম উদ্দীন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। পরে জসীম কমপ্লেক্স ও সোজন বাদিয়ার ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ, জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা, জেলা পরিষদ প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ এবং পুলিশ সুপার নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দিনশেষে সার্কিট হাউসে স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মাধ্যমে উপদেষ্টা তাঁর সফর শেষ করেন।




















