সারাদেশ

সিলেটে জুলাই হামলার আসামি যুব মহিলা লীগ নেত্রী লাকি এখনো প্রকাশ্যে

  সিলেট ব্যুরো ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৮:০৯:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ

 

জুলাই মাসে সিলেট শহরে ছাত্র–জনতার ওপর হামলার অন্যতম নেতৃত্বদানকারী হিসেবে চিহ্নিত সিলেট মহানগর যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাকি আক্তার ওরফে লাকি আহমেদ এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, হামলার ঘটনায় মামলা হওয়ার পরও তাকে গ্রেপ্তার না করায় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, লাকি আক্তার বর্তমানে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন—“আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় এলে যারা আমাদের বিরুদ্ধে গেছে, সবাইকে দেখে নেওয়া হবে।”

লাকি আক্তার সিলেট মহানগর যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন মানুষকে ভয়–ভীতি দেখিয়ে, মিথ্যা অভিযোগের হুমকি ও প্রভাব খাটিয়ে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে হয়রানি করে আসছেন। কারো সঙ্গে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে বা তাঁর বিরোধিতা করলে হুমকি, মামলা ও নানা ধরনের চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় হলেও সিলেটেই তিনি মূলত সক্রিয় ছিলেন। পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, জুলাই মাসে সিলেটের বন্দরবাজার এলাকায় ছাত্র–জনতার ওপর সশস্ত্র হামলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন লাকি এবং তাঁর স্বামী রানা। সেদিন তাঁদের অনুসারীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়, এতে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় পরবর্তীতে মামলা দায়ের করা হলেও এখনো লাকিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, জমি দখল, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগেও তাঁর নাম শোনা যায়। ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, “লাকির বিরুদ্ধে কথা বললেই নতুন করে ঝামেলায় জড়াতে হয়—এমন ভয় কাজ করে সবার ভেতর। আমরা ন্যায়বিচার চাই, কিন্তু অভিযোগ করার পরও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।”

সিলেটবাসীর দাবি, জুলাই হামলা ও পরবর্তীকালের সব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে লাকি আক্তার ও তাঁর সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর এমনভাবে ভয়ভীতি ও সন্ত্রাস চাপিয়ে দিতে না পারে।

আরও খবর

Sponsered content