খেলাধুলা

স্পেনের বিপক্ষে ‘দর্শনীয়’ সেমিফাইনালের প্রত্যাশা ফ্রান্স কোচের

  প্রতিনিধি ১৪ জুলাই ২০২৬ , ১১:৪৪:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে তার দলের অবস্থান নিয়ে করা প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। বরং তিনি সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ স্পেনের প্রশংসা করে বলেছেন, মঙ্গলবারের ম্যাচটি হবে দর্শনীয় এক লড়াই।

স্পেনের শক্তির কথা তুলে ধরে দেশম বলেন, ‘তারা খুব ভালো আক্রমণ করতে পারে, আবার রক্ষণও দুর্দান্ত। তারা এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে। লুইস ও আমি জানি কীভাবে ভালো রক্ষণ গড়ে তুলতে হয়। তবে দুই দলের আক্রমণভাগের মান বিবেচনা করলে মনে হচ্ছে এটি একটি দারুণ ম্যাচ হতে যাচ্ছে।’

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই স্পেন ও ফ্রান্সকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে ধরা হয়েছিল। পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণে স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ছিল সবচেয়ে বেশি, আর দ্বিতীয় স্থানে ছিল ফ্রান্স।

দেশম বলেন, ‘কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে স্পেন কী করেছে, সেটা ভুলে যান। ওই ম্যাচে তারা গোলশূন্য ড্র করেছিল। এরপরের প্রতিটি ম্যাচেই তারা প্রমাণ করেছে যে কেন তাদের অন্যতম ফেভারিট বলা হচ্ছে।’

তিনি মজা করে আরও বলেন, ‘আমি লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও তার দলের ওপর বাড়তি চাপ দিতে চাই না। তবে তিনি ভালোভাবেই জানেন, মানুষ তার দলের কাছে অনেক প্রত্যাশা করছে।’

স্পেনের একমাত্র গোলশূন্য ড্র হয়েছিল কেপ ভার্দের বিপক্ষে, সেই ম্যাচে দলের তারকা উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল শুরুর একাদশে ছিলেন না। এরপর অবশ্য দুই দলই নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে।

সোমবার ১৯ বছরে পা দেওয়া ইয়ামাল এবারের আসরে এখন পর্যন্ত একটি গোল করেছেন এবং কোনো গোলে সহায়তা করাননি। তবে স্পেনের মোট ৫৪০ মিনিটের খেলার মধ্যে মাত্র ৪০৫ মিনিট মাঠে থেকেও তিনি দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি শট নেওয়া, গোলমুখে শট, মাটিতে বল দখলের লড়াইয়ে জয় এবং সফল ক্রস দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন।

ইয়ামাল বলেন, ‘এটি স্পেন ও ফ্রান্সের সব সমর্থকের জন্য দারুণ একটি ম্যাচ হবে। বিশ্বকাপে সবাই এমন একটি ম্যাচ দেখতে চেয়েছিল। দুই দলই নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে আক্রমণ ও রক্ষণ করবে। ম্যাচটি হবে অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।’

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গোল ব্যবধানের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। প্রতি ম্যাচে তাদের গড় গোল ব্যবধান ২.৩ এবং প্রত্যাশিত গোলের ব্যবধান ১.৭। তারা প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৭ গোল করেছে, যা টুর্নামেন্টে চতুর্থ সর্বোচ্চ। অন্যদিকে গোল হজম করেছে মাত্র ০.৩টি, যা তৃতীয় সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে, স্পেন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণ দেখিয়েছে। ছয় ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা। প্রতি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রেও তারা দ্বিতীয় সেরা অবস্থানে রয়েছে।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে অবশ্য ফেভারিটের তকমা নিয়ে কোনো আলোচনায় যেতে চাননি।

তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই বলে আসছি, কে ফেভারিট আর কে নয়—এসব দিয়ে কিছু নির্ধারিত হয় না। সত্যি বলতে, আমরা দুটি অসাধারণ জাতীয় দল। বড় কোনো ফাইনালে যেমন লড়াই প্রত্যাশা করা হয়, এটি ঠিক তেমনই একটি ম্যাচ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো একটি দলকে যদি কেউ ফেভারিট বলতে চায়, বলতে দিন। আমরা বাড়তি চাপ নিতে চাই না। আমাদের একমাত্র চাপ হলো দেশের মানুষ, সমর্থক এবং নিজেদের প্রতি থাকা দায়িত্ব।’

স্পেন ও ফ্রান্সের সেমিফাইনাল ম্যাচ শুরু হবে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রাতে। এই ম্যাচের বিজয়ী দল রোববার নিউ জার্সিতে ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ীর।

আরও খবর

Sponsered content