রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:৫০:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ
শীতের সকালের কুয়াশা ভেদ করে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধুই হলুদের উচ্ছ্বাস। দিগন্তজোড়া সরিষার হলুদ ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে গ্রামবাংলার প্রান্তর। বাতাসে ভাসছে সরিষা ফুলের মৃদু সুবাস, আর কৃষকদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তি ও আশার ঝিলিক।
অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত বীজ ব্যবহার, সঠিক সময়ে বীজ বপন, কৃষি অফিসের নিবিড় তদারকি ও নিয়মিত পরিচর্যার ফলে চলতি রবি মৌসুমে রাণীশংকৈলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। পাশাপাশি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। ফলে তেল ফসলকে ঘিরে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭০০ হেক্টর বেশি।
সরিষার হলুদ ফুলে শুধু মাঠ নয়, রাণীশংকৈলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকের স্বপ্নও যেন রঙিন হয়ে উঠেছে। প্রকৃতি ও পরিশ্রমের এই মেলবন্ধন কৃষিনির্ভর জনপদের জন্য বয়ে আনছে আশার আলো।
কৃষকরা জানান, বাজার ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে লাভের পরিমাণ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, স্থানীয়ভাবে তেল উৎপাদনের সুযোগ এবং মধু সংগ্রহ বাড়ানো গেলে সরিষা চাষ আরও লাভজনক হবে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ বছর উন্নত জাতের সরিষার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বারি সরিষা-৭, ৮, ১৪, ১৮ ও ২০, বিনা সরিষা-৪, ৯, ১০ ও ১১ এবং বাউ সরিষা-৪ থেকে ৮ জাত। এসব জাত উচ্চ ফলনশীল, স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন এবং প্রচলিত জাতের তুলনায় বেশি তেল ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ।
সরিষার ফুল থেকে খাঁটি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরাও। উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের কাদিহাট মালিবস্তি এলাকায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মৌচাষি আব্দুস সাত্তার শতাধিক মৌবক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ দিন সেখানে অবস্থান করে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মন মধু সংগ্রহের আশা করছেন। এসব মধু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা হবে। বর্তমানে প্রতি কেজি মধু ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাশিপুর ইউনিয়নের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, “এ বছর প্রথমবার দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। দাম ভালো পেলে প্রতি বিঘা থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।”
নন্দুয়ার ইউনিয়নের বেল্লাল, বাচোর ইউনিয়নের মামুন ও হোসেনগাঁও ইউনিয়নের লিটন আলীসহ একাধিক কৃষক জানান, আমন ধান কাটার পর বোরো ধানের আগ পর্যন্ত পতিত জমিতে সরিষা চাষ করে তারা জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছেন এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা শুরু থেকেই কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। ঘন কুয়াশা কম থাকায় এবার ফলন ভালো হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, কৃষি অফিসের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এ বছর সরিষার আবাদ ব্যাপক হয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় সরকারি কৃষি প্রণোদনা ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।





















