প্রচ্ছদ

৭ নভেম্বর: বিএনপির দৃষ্টিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতির দিন

  প্রতিনিধি ৭ নভেম্বর ২০২৪ , ১১:১৯:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত দিন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই দিনটিকে “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস” হিসেবে আখ্যা দেয়। তাদের দাবি, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনা ও জনতার ঐক্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এক ঐতিহাসিক মোড় তৈরি করেছিল।


ঘটনার পটভূমি
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই আসে ৭ নভেম্বর। বিএনপির বর্ণনা অনুযায়ী, এই দিনে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনা সদস্য ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেন এবং রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান। এরপর থেকেই জিয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জাতীয়তাবাদী ধারা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” নামে পরিচিতি পায়।


সেনা-জনতার ঐক্যের প্রতীক
বিএনপির ভাষ্যমতে, ৭ নভেম্বর কেবল ক্ষমতার পালাবদলের দিন নয়, বরং সৈনিক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একাত্মতার প্রতীক। তাদের দাবি, এই ঐক্যের ফলে দেশ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা থেকে উত্তরণ ঘটায় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে নতুন করে জাতি গঠনের পথে এগিয়ে যায়।


বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথপ্রসার
বিএনপির মতে, ৭ নভেম্বরের ঘটনার পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তিত হয়, যা স্বাধীনতার পর স্থবির হয়ে পড়া রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আবারও সচল করে। এই দিনকে তারা মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী জাতীয় পুনর্জাগরণের সূচনা হিসেবে দেখেন।


দলীয় উদযাপন ও তাৎপর্য
প্রতি বছর বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে আলোচনা সভা, র‌্যালি, দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। দলীয় নেতাদের ভাষায়, “এ দিন আমাদের জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতার অঙ্গীকার ও জনগণের অধিকার রক্ষার শপথ পুনর্নবীকরণের দিন।”



যদিও ৭ নভেম্বর নিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে, বিএনপির কাছে এটি এক অবিস্মরণীয় তারিখ—যা তাদের রাজনৈতিক দর্শন, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাদের চোখে, এটি সেনা-জনতার অবিচ্ছেদ্য ঐক্যের প্রতীক এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বিজয়দিবস।

আরও খবর

Sponsered content