ফ্যাশন

ফ্যাশনে আরামে কাফতান

  প্রতিনিধি ৪ জুলাই ২০২৫ , ৫:৪৫:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিনিয়তই পরিবর্তন হচ্ছে ফ্যাশন। এই সময়ের আবহাওয়ায় কাফতানের মতন পোশাক খুবই আরামদায়ক। আগে একই ধরনের কাফতান ঘরে পরার জন্য হলেও এখন বিভিন্ন স্টাইলিশ কাফতান অনায়াসেই বাইরে ক্যাজুয়াল ও নানা অনুষ্ঠানে নজর কাড়ছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ আবহাওয়া অনুযায়ী কাটছাঁটে তৈরি হচ্ছে কাফতান। আর জায়গা অনুযায়ী নকশার ভিন্নতারও অভাব নেই। তাই এ সময় সংগ্রহে রাখতেই পারেন বেশ কয়েকটি কাফতান। হাল ফ্যাশনের কাফতানের ট্রেন্ড জানাচ্ছেন নিশাত তানিয়াবাসায় সব সময় ফিটফাট থাকার মতন একটা পোশাক হলো কাফতান। আর করোনাকালে এই কাফতান পরে অনলাইন অফিসে খুব সহজেই একটা স্মার্ট লুক আনা গিয়েছিল। তখন থেকেই এটা বেশ জনপ্রিয়। এখন বাইরেও পরছে, নানা ধরনের কাফতান। ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাকটি ঘরে-বাইরে সমানভাবে উপযোগী। আবার ইস্তি করার ঝামেলা ছাড়াই কাফতান পরে আনুষ্ঠানিক ভিডিও কলে অনায়াসে বসা যাচ্ছে। এর সুবিধা এবং স্টাইল সম্পর্কে হুর নুসরাতের কর্ণধার নুসরাত লোপা বলেন, একেক সময় একেক ট্রেন্ড চলে। পোশাকের ফ্যাশনে সময়োপযোগী পরিবর্তন আনলে নিজের মনের সুন্দর একটা চেঞ্জ আসে। অনেক আগে কাফতান থাকলেও মাঝে এর চলটা একটু কমে গিয়েছিল। এখন আবার তরুণদের মাঝে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই কাফতান। আর এখন প্রচ- গরমের সময়, এটা আরাম-ফ্যাশান দুটাই একসঙ্গে হয়ে যায়। বিশেষ করে একটা ট্রেন্ডি কোনো কাপড় দিয়ে বানালে কাফতানটাই হয়ে যাবে ভীষণ গর্জিয়াছ, আবার নরমাল কাপড় দিয়ে আনলে ক্যাজুয়াল হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।কাফতানে আরাম, কাফতানে স্বস্তিআগে কাফতান বেশ লম্বা পা পর্যন্ত পরলেও এখন অনেকেই শর্ট কাফতান পরছে। আর কাপড়ের দিক থেকে দেখা গেল সুতি, লিনেন, খাদি বা সিল্কের কাপড়ে তৈরি হচ্ছে দারুণ সব কাফতান। সহজেই বেছে নিতে পারেন স্থানভেদে নিজের পছন্দ মতন। হালকা রঙের কাফতান চোখকে আরাম দেবে, শরীরেও থাকবে স্বস্তি। হালকা বাঙ্গি কালার, হলুদ, পেস্ট, হালকা সবুজ, গোলাপি, জলপাই, আকাশি, ধূসর প্রভৃতি রঙ বেছে নিতে পারেন। কাফতান টপসও পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো তরুণদের মধ্যে ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবে পছন্দের শীর্ষে এখন। আবার নানা মোটিভের নকশিকাঁথার কাজ ও লেইস লাগানো কাফতানগুলোও বেশ নজর কারছে।কাফতানের নকশাআপনার প্রিয় ও আরামদায়ক কাফতানের গলায় ইংরেজি অক্ষর ভি, ইউ দিতে পারেন। আবার বুকের কাছে লাগাতে পারেন বড় একটা লকেট বা বকলেস।এ ছাড়া কাফতানের নকশায় থাকতে পারে-হ কোমরের কাছে একটা দড়ির বন্দোবস্ত করতে পারেন। এতে পোশাকটার স্টাইল সুন্দর হয়। ঢিলেঢালা তো বটেই, সঙ্গে একটা নতুন শেপও আসে।হ একদম সাদামাটা না করে কাফতানের নিচের অংশটা একটু জিকজ্যাক করতে পারেন। অবার রুমাল ছাঁটের কাফতানগুলোও কিন্তু বেশ গর্জিয়াছ লুক দেয়।হ আবার সামনে উঁচু, পেছনে লং কাফতানগুলোও এখন বেশ চলছে।হ কাফতানে এখন যোগ হচ্ছে বেলুন ছাঁটের হাতের ব্যবহার, চাইলে হাতায় রাখতে পারেন নানারকম ফ্রিল, লেইস, টারসেল। প্রজাপতি এবং মাইক হাতার ব্যবহারও বেশ দেখা যাচ্ছে।হ আবার ছোট হাতাও পরতে পারেন। ভাঁজ করে সেলাই করতেও (পিন্টেক সেলাই) হাতের অংশ ছোট হয়ে আসবে আর নকশাতেও আসবে ভিন্নতা।হ তবে কাফতানের সঙ্গে সেলোয়ারটা একটু লক্ষ রাখবেন। শর্ট কিংবা লং, সবটার সঙ্গেই ঢিলেঢালা সেলোয়ার যাবে। এগুলো শার্টিন কাপড়ের বানিয়ে নিতে পারেন। অথবা ফরমাল প্যান্টগুলোও ভালো লাগবে। মোট কথা টাইট না হয়ে ঢিলা ভালো লাগবে।হ কেউ যদি চান তা হলে সঙ্গে নিতে পারেন ছোট্ট স্কার্ফ।ঘরের কাপড়েই কাফতানএটার ডিজাইনই এর সৌন্দর্য, তাই যে কোনো কাপড় দিয়ে কাফতান কাটিং ড্রেস বানাতে পারেন। শাড়ি কেটে কাফতান বানানোর সময় এর আঁচলটা ব্যবহার করতে পারেন সামনের অংশে। আবার শাড়ির পাড় দিয়ে দিতে পারেন চারদিকে ফ্রিল। আর আমাদের শাড়ির চওড়ায় যে মাপ থাকে তা দিয়ে অনায়াসে নিজেই তৈরি করে ফেলতে পারবেন কাফতান।কোথায় পাবেন-এটা যেহেতু হাল ফ্যাশন তাই হাতের কাছে অনেক জায়গায়ই পেয়ে যাবেন নিজের পছন্দ মতন কাফতান। দামও হাতের নাগালে। রাজধানীর দেশীয় শোরুমগুলোসহ বসুন্ধরা সিটি, টোকিও স্কয়ার, নিউমার্কেট, নুরজাহান মার্কেট, গাউছিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন পেজে। দাম পড়বে স্থানভেদে ৮০০ থেকে ২০০০ টাকা।

আরও খবর

Sponsered content