সারাদেশ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তালাবদ্ধ হলেও বাস্তবে স্কুলে চলছে বার্ষিক পরীক্ষা

   মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:১৩:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

 

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল থেকে তালা ঝুলানো অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলো দেখে অনেকেই ধারণা করেছেন, বিদ্যালয়গুলোতে ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ কর্মসূচি কার্যকর হয়েছে।

তবে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ভিতরে সীমিত পরিসরে প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরীরা বার্ষিক পরীক্ষার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ তালাবদ্ধ থাকলেও শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা পরিচালনা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো দেখে কেউ কেউ মনে করছেন বিদ্যালয় বন্ধ, আবার কেউ এটিকে শিক্ষকদের দাবি আদায়ের প্রতীকী আন্দোলন বলছেন।

সহকারী শিক্ষকরা জানান, “১১তম গ্রেড বাস্তবায়নসহ ৩ দফা ন্যায্য দাবির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তালাবদ্ধ কর্মসূচি চলবে। বহুদিন ধরে আন্দোলন করছি, কিন্তু সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা বাধ্য হয়েছি এই পথে যেতে।”

একজন প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সহকারী শিক্ষকরা আন্দোলনে থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবুও পরীক্ষার কাজ যথাসম্ভব চালিয়ে যাচ্ছি। তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক।”

কাটিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমি দপ্তরীকে নিয়ে বার্ষিক পরীক্ষা নিচ্ছি। কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি, সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে চলছে।”

মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এম. জাকিরুল হাসান বলেন, “বিদ্যালয়গগুলো তালাবদ্ধ থাকায় কিছু একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে সচেতন অভিভাবকরা সাহায্য করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, দ্রুত সমাধান আসবে বলে আশা করি।”

হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, “আমি নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে মাধবপুরে পরিদর্শনে আছি। আন্দোলনের প্রভাব ও শিক্ষার কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখব।”

প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন এখন সামাজিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে অভিভাবকদের আশা—শিক্ষক ও সরকারের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হয়ে শিক্ষার্থীর পড়ালেখা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

আরও খবর

Sponsered content